Main Menu

গোয়াইনঘাটের চৌকস পুলিশ অফিসার আব্দুল আহাদ

ফারহানা বেগম হেনাঃ সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ (ওসি)আব্দুল আহাদ। আব্দুল আহাদ গোয়াইনঘাট থাানায় যোগদানের পর থেকেই এলাকায় মাদক,নারী নির্যাতন,চোরাকারবারি সহ সকল প্রকার অপরাধ দমনের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন যার ফলে বর্তমানে গোয়াইনঘাট এলাকায় তুলনামূলক ভাবে অপরাধের পরিমানও কমে এসেছে। এলাকায় সচেতনতা মূলক প্রচারণা গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে সচেতনতা মূলক আলোচনা প্রচার প্রচারণা সহ বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছেন। একজন দক্ষ অফিসার ইনচার্জ হতে হলে দক্ষতা থাকা অতি জরুরী। কর্মদক্ষতা,উন্নত চিন্তা চেতনাকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ দমনে নিজেকে কাজে লাগাতে হয়। আর এর সবকটি গুন গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুল আহাদের মধ্যে বিরাজমান।

পুলিশ জনতা,জনতাই পুলিশ এই কথার যথার্থ ভাবে প্রমানিত। সারা বিশ্বের যখন করোনা ভাইরাস এর আত্মকে আত্নকিত ছিল তখন আমাদের দেশের মানুষ ও তখন লকডাউনে ঘর বন্দী হয়ে পড়ে। তখন এই পুলিশ বাহিনীর নিয়মিত কাজের বাইরে গিয়ে মানবিকতার কথা চিন্তা করে দূর্গম এলাকায় দিন কিংবা রাতে মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য নিজেদের উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। ঝড়-বৃস্টি উপেক্ষা করে স্বর্বসামর্থ্য নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন তা দিনের মতো সত্যি।

পুলিশের পোশাকে ভিতরে থাকা মানুষ টা শুধু পুলিশ নয় আপনার আমার মতোই একজন মানুষ এটা আমারা অনেক সময় ভুলে যাই। তাই তো চুন থেকে পান খসলেই পুলিশ এর চৌদ্দ গোস্টি উদ্ধার করতে এক মিনিট ও দেরি করিনা। কিন্তু পুলিশ এর চৌদ্দ গোস্টি উদ্ধার করার আগে একবার ও নিজের জ্ঞান বুদ্ধিটা কে কাজে লাগাইনা। উপস্থিত সময়ে কোন একটা বিষয় দেখলাম বা জনলাম ব্যাস বাজে মন্তব্য করতে শুরু করলাম কিন্তু বিষয় টা যাচাই বাছাই বা বিষয়টার গভীরে যাওয়ার প্রয়োজন ই বোধ করি না কারন পুলিশ কে তো গালি দিতে পারলেই নিজেকে অনেক বড় বাহাদুর মনে হবে।

রায়হান হত্যাঃ
বর্তমান সময়ের আলোচিত ঘটনা হলো রায়হান হত্যা।
রায়হান হত্যা মামলার আসামী বরখাস্তকৃত এসআই আকবর ভুঁইয়াকে আটকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গত কিছু দিন ধরে সোস্যাল মিডিয়াতে বাজে মন্তব্যের ঝড় বয়ে গেছে। কিছু মানুষ সত্যিটা পুরোপুরি না জেনেই শুধু মাত্র একটি ভিডিও ফুটেজ এর আংশিক অংশ দেখে মনে করতে লাগলেন এখানে পুলিশ এর কোন অবদান নেই। কিন্তু ভিডিও টা বিচক্ষণতার মাধ্যমে খুব ভালো করে দেখলে ক্লিয়ার বুঝা যায় যে রহিম কার হয়ে সীমান্তের ভিতর গিয়েছিল আর কার নির্দেশে আকবর কে নিয়ে আসছে।

আকবর গ্রেফতার হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় রহিম উদ্দিন যে বক্তব্য দিয়েছে তা সত্য নয়। আর রহিম এর বক্তব্য যে সত্য নয় তা রবিবার রাত থেকে রহিম যে গোয়াইনঘাট থানায় ছিল তা দিনের মতো পরিস্কার হয়ে যায় সিসি টিভির ফুটেজ ও কিছু ভিডিও ক্লিপ প্রকাশ হওয়ার পর থেকে।

কানাইঘাট থানা পুলিশ আকবর ভুইয়াকে ভারত থেকে আটক করে দেশে আনতে রহিম উদ্দিনকে সাথে নিয়ে রবিবার রাত ৮টা থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পুলিশের গাড়ীতে অবস্থান করেছিল তার বাস্তব প্রমাণ এই ভিডিও গুলোতে সবাই দেখেছেন। এছাড়াও আকবরকে আটকে কারা সহযোগিতা করেছে তার বক্তব্য ভারতীয় খাসিয়ারা ভিডিও করে দিয়েছে তাও সোস্যাল মিডিয়াতে মানুষ দেখেছেন।

রায়হান হত্যায় বরখাস্থ কৃত এস আই আকবর ভূইঁয়াকে গ্রেপ্তার সম্পর্কে জানতে চাইলে ওসি আব্দুল আহাদ জানান,আমরা পুলিশ,আমরা আপনাদের সেবা দিতে গিয়ে বাবা মা ভাইবোন,স্ত্রী ছেলে সন্তানদের ছেড়ে দেশের ৬৪টি জেলায় এবং বিভিন্ন থানায় আমাদের থাকতে হয়। আপনারা জানেন পুলিশের পক্ষ থেকে প্রায়’ই বলা হয়, পুলিশই জনতা আর জনতাই পুলিশ। এই কথার ব্যাখায় কি বলা হয়েছে জানেন? জনতার জন্য পুলিশ পুলিশের জন্য জনতা।

আকবর কে ধরার জন্য এসপি স্যার জনতা কে ব্যবহার করেছেন সোর্স হিসেবে,যাদেরকে এসপি স্যার বন্ধু হিসেবে আক্ষাহিত করেছেন কারণ আইনি প্রতিক্রিয়ায় আকবর কে গ্রেপ্তার করতে হলে টের পেয়ে যদি সে পালিয়ে যায় তাহলে অপারেশন ব্যর্থ হবে।

সিলেট জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের প্রশংসনী পরিকল্পনায় ও বিভিন্ন কৌশল অবলম্বনে স্থানীয় মানুষদের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হলো আকবরকে।

আইনি প্রক্রিয়ায় আকবর কে আনা জটিল ও সময়ের বেপার। তাছাড়া বিএসএফ ও বিজিবি বৈঠক ও কঠিন কাজ ছিলো। খাসিয়ার নিকট থেকে আকবর কে রহিম সহ প্রায় ৬ জনেই নিয়ে আসে ভারতের পাহাড় ঘেরা ডানা সীমান্ত এলাকায়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও তেমনি ভাইরাল হয়েছে। স্বাভাবিক দেখা এই ভিডিও গুলো তদন্ত সাপেক্ষে দেখলেই বুঝা যায় সিলেটের সুনামধন্য পুলিশ সুপার মো.ফরিদ উদ্দিন স্যারের প্রেস ব্রিফিং ও সঠিক ছিল। আইনি অনেক বাধ্য বাধকতা থাকে তাই সব কিছু পাবলিকে পাবলিশার্স করা সম্ভব হয় না।

কারন আইনি প্রক্রিয়ায় আকবর কে দেশে আনা জটিল ও সময়ের বেপার। তা ছাড়া বিএসএফ ও বিজিবি বৈঠক ও কঠিন কাজ। অজানা সমালোচনার ফাঁদে যারা মিছিল দিচ্ছেন,আসুন বিশ্লেষণে জেনে নেই মহানায়ক এসপি স্যারের আউটসোর্সিং সম্পর্কে।

ভারতীয় খাসিয়া পুঞ্জিতে (পাহাড়) এলাকায় আকবর কে আটকের পর,বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সোর্সের মাধ্যমে পুলিশী বিচক্ষণতার জন্য পাবলিক ব্যবহার করাহয়।

এসপি মহোদয়ের নির্দেশে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ থানার ওসি দ্বয়ের মাধ্যমে তাদের (বর্ডার) সীমান্ত অতিক্রম করে অপেক্ষমাণ পুলিশ গ্রহণ করেন আকবরকে। সকল সোর্স পাবলিক,চেয়ারম্যান ও সাদা পোষাকের এ-ই খবরটির পিছনে পুলিশের তৎপরতা এবং চেয়ারম্যান ও জনগণের সম্পৃক্ততা ছিলো। আইনি ভাবে পুলিশ ন-মেন্স লেণ্ডে যেতে পারেন না তাই এত অনীরবর্তা। সকল কাজ পুলিশের তত্বাবধানে হয়েছে।

এখানে আরেকটি জিনিস লক্ষ্য করবেন রহিম সহ এ-ই লোক গুলো ইচ্ছাকৃত ভাবে আকবর ভূঁইয়া কে মারধর বা খারাপ আচরণ করেনি। পানির বোতলও দিয়েছে। ও যদি চলে যায় তাই হাত-পা বেধেছে। আরেকটি তথ্য জেনে নিন,সাহসী যুবক রহিমের মোবাইল কথোপকথন শুনলে দেখবেন,ওসি স্যার ও প্রশাসনের লোককে খবর দিচ্ছেন এবং মোবাইল নেট দূর্বল তাও বলছেন। আপনারা বাস্তবতার গভীরে না গিয়ে সুনামধন্য এসপি ফরিদ উদ্দিন মহোদয় কে নিয়ে অযথা সমালোচনা করছেন।

সকল পুলিশ প্রদীপ,লিয়াকত,আকবর নয় কিন্তু। হাতে গুনা কিছু পুলিশ সদস্য খারাপ আর খারাপের থেরাপিও অব্যাহত রয়েছে বটে।

নেপত্যের তথ্য প্রমাণ সমৃদ্ধ দ্রুব সত্যের অজানা কাহিনীগুলো সবসময় উপস্থাপন করা যায় না। জেনে শুনে কোন মিথ্যাকে সত্যে রূপান্তর করে পোস্টে শেয়ার করার মতো দু:সাহস এবং মানসিকতা কোনটাই আমার নেই। তাই না জেনে পোস্টে কোন বিরূপ মন্তব্য দানে বিরত থাকার অনুরোধ করছি। কোন কৃতিত্ব ফেসবুকে ভিক্ষা করে নেয়ার মনমানসিকতা সিলেট জেলা পুলিশের অন্তরে লালন করে না। আবার কোন অসাধ্য কাজের কৃতিত্ব ভাগিয়ে নিয়ে সস্তা বাহ্বা নেয়ার জন্য জেলা পুলিশ কাজ করে না। ডিপার্টমেন্টের ভাবমূর্তি রক্ষা, আত্মসন্তুষ্টি,পেশার দায়িত্ববোধ থেকে এমন কাজ সম্পাদনে জেলা পুলিশকে অনুপ্রেরনা যোগায়।

চৌকস পুলিশ অফিসার সিলেট ঘোয়াইনঘাট থানার ওসি আব্দুল আহাদ বলেন,সমালোচনা করেন কিন্তু তা হোক গঠনমূলক। কারো প্রতি আক্রোশ আর বিদ্বেষমুলক আচরণ থেকে বিরত থাকুন।

একজন পুলিশের অন্যায়ের জন্য অপরকে দায়ী করা যায় না। এটি মোটেও ধর্মীয় শিক্ষার অনুকূল আচরণ নয়। সামাজিক দৃষ্টিকোন থেকেও এহেন আচরণ অগ্রহনযোগ্য। রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনও এটি সমর্থন করে না। একজনের অপরাধে অথবা বিচ্যুতিতে যদি পুরো সার্ভিসের প্রতি বিদ্রুপাত্বক ভাষায় আক্রমনাত্বক আচরণ করা হয় তখন সেটা নিশ্চিতই ধর্মীয় ও সামাজিক গ্রহনযোগ্যতার গন্ডি পেরিয়ে কোথাও কোথাও আইনের সীমা অতিক্রম করে যায়।

পুলিশ নিজেদের ত্রুটি বিচ্যুতি গুলোর খোঁজ খবর করে আত্মসমালোচনায় ব্রতী হতে পারে। এতে পুলিশ আরো পরিশুদ্ধ ও পরিশীলিত হতে পারব।

সালেহ আহমেদ এর মুখ থেকে রায়হান হত্যার আসামি এসআই আকবর কে গ্রেফতারের নেপথ্যে কারা ছিলো তা আপনারা সালেহ আহমদ সহ বেশ কিছু মানুষের মুখে শুনেছেন ও ভিডিও দেখেছেন। আমি ধন্যবাদ জানাই নিজাম ভাই সহ কানাইঘাট উপজেলার সাংবাদিকবৃন্দ ও যারা আকবর গ্রেফতার হওয়ার পর সঠিক সত্য কে গভিরে গিয়ে তা মিডিয়াতে তুলে ধরেছেন ও সত্যি প্রকাশে আমাদের কে সহায়তা করার জন্য।

আমি বা কেউ রহিমের কাজের অবমূল্যায়ন করার কোন উদ্দেশ্য নেই,রহিমের অবদান ও অপরিসীম ছিল/আছে। তবে রহিমের উচিতছিল কারো হুমকি বা প্ররোচনায় পড়ে মিথ্যা না বলে সব সত্য খোলাসা করা এবং রহিম সহ আরও যারা সংযুক্ত ছিলেন যাদের অবদান আছে তাদের কথা বলা তাহলে রহিম ই আরো বেশি মর্যাদা পেতো। দেরিতে হলেও রহিম তার ভুল বুঝতে পেরেছে এবং সাহসিকতার সাথে সত্যিটা তুলে ধরেছে এ জন্য ধন্যবাদ জানাই।

একটি সুন্দর,সহনশীল প্রত্যাশিত সমাজ গড়ায় সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষের দায়িত্ববোধ এবং বিবেচনাপ্রসূত আচরণের বিকল্প নেই বলেই সরল বিশ্বাস। আর এই বিশ্বাসের সাথে সকলেই হয়তো একমত হবেন আশা করি। শুভকামনা করি ওসি আব্দুল আহাদ এগিয়ে চলেন সততার মন মানুষিকতা উপর বিশ্বাস নিয়ে।






Related News

Comments are Closed