Main Menu

প্রয়ান দিবসকে সামনে রেখে শেষ হলো মাসব্যাপী ভবমেলা

নিজস্ব প্রতিবেদন : নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে মাসব্যাপী ভার্চুয়ালী ভবমেলা ২০২০। সিলেটের প্রখ্যাত গণসঙ্গীত শিল্পী, সঙ্গীতাচার্য্য কমরেড ভবতোষ চৌধুরীর প্রয়ান দিবসকে সামনে রেখে ‘ভবতোষ চৌধুরী স্মৃতি পরিষদ’ কানাডার আয়োজনে এই ভবমেলা অনুষ্ঠিত হয়। (৫-২০) নভেম্বর’২০ আয়োজিত ”ভবমেলা২০২০” উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ড: শফিউদ্দিন আহমেদ।

গণসংগীতশিল্পী কমরেড ভবতোষ চৌধুরী স্মৃতি পরিষদের ফেইসবুক পেইজ হতে প্রতিদিন বাংলাদেশ সময় রাত ৯ টায় সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এই অনুষ্ঠান। স্মরণউৎসবের প্রতিটি পর্বে তাঁর সহশিল্পী, সহযোদ্ধা, বন্ধু, স্বজন সকলের স্মৃতিচারণে, গানে ও বক্তব্যে তাঁর প্রতি ভালবাসা আর শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের পাশাপাশি প্রাধান্য পায় তাঁর বিস্তৃত কর্মযজ্ঞের নানাদিক। তুলে ধরা হয় ‘ভবতোষের স্বপ্ন, ভবতোষদের স্বপ্ন’।

ভবমেলার আয়োজনে বিভিন্ন পর্বে অংশ গ্রহণ করেন দেশবরেণ্য নাট্যকার, সঙ্গীতশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রগতিশীল রাজনিতক নেতৃবৃন্দ। প্রখ্যাত নাট্যকার ও সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শঙ্কর শাঁওজাল বলেন, আগামীতে ভবমেলাকে আরো বেশি প্রাণের মেলায় পরিণত করে ”ভবতোষের স্বপ্নকে, ভবতোষদের স্বপ্নকে” সামনে নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। ইউকে সিপিবির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এ্যাড. আবেদ আলী আবিদ বলেন, দীর্ঘকালব্যাপী বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির একজন নিরলস কর্মী হিসেবে কমরেড ভবতোষ চৌধুরী। তিনি স্মৃতিচারণে ভবতোষ চৌধুরীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। একজন আপাদমস্তক গণসংগীতের শিল্পী যিনি সর্বদা গানের কথায় ও ব্যবহারে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষকে উজ্জীবিত করতেন বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী সিলেট জেলার প্রাক্তন সভাপতি এ্যাড তবারক হোসেন।গণসংগীতশিল্পী কমরেড ভবতোষ চৌধুরী স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে উঁনার রচিত গানগুলোকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রত্যেকটি উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সংসদে ছড়িয়ে দেবার ইচ্ছা প্রকাশ করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন। উদীচী সিলেট জেলার বতর্মান সভাপতি ও কমরেড ভবতোষ চৌধুরীর দীর্ঘদিনের শিল্পী সহযোদ্ধা এনায়েত হাসান মানিক বলেন, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মঞ্চে কমরেড ভবতোষ চৌধুরী তাঁর গণসংগীতের মাধ্যমে হাজার হাজার জনতাকে মাতিয়ে রাখতেন অসাধারণ দক্ষতায়। সিলেটের গণসংগীতশিল্পী অংশুমান দত্ত অঞ্জন, ভবমেলার বিভিন্ন পর্বে সংযুক্ত হয়ে তার গণসংগীতের গুরু ভবতোষ চৌধুরীর তাৎক্ষণিক গান রচনা করে গাওয়ার অসামান্য গুণাবলীর কথা বিভিন্ন উদাহরণে তুলে ধরেন এবং নিজেও কমরেড ভবতোষ চৌধুরীর রচিত গান পরিবেশন করে শোনান।

মাসব্যাপি ভবমেলায় বিভিন্ন পর্বের স্মৃতিচারণে, গানে ও বক্তব্যে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাহমুদ সেলিম, কবি ও গীতিকার অনিমেষ আইচ, বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদের সভাপতি ইন্দ্রানী সেন, উদীচী সিলেট জেলা সংসদের সহ-সভাপতি রতন দেব,প্রখ্যাত নজরুল সংগীতশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস, সংগীতশিল্পী সুধেন্দু ভট্টাচার্য্য সুজন, সংগীতশিল্পী মীনাক্ষী দত্ত চক্রবর্তী, সাংবাদিক দেবব্রত রায় দিপন, উদীচী সিলেট জেলা সংসদের প্রাক্তন সদস্য অনুপ নারায়ণ রুমেল, গীতিকবি শ্রীমতি সুবর্ণা দাশ, সংগীতশিল্পী শ্রীমতি কাবেরী দাশ, সিনিয়র সাংবাদিক পার্থ সারথি দাস, ঢাকা দক্ষিণ কলেজের প্রাক্তন প্রভাষক সুকান্তি ভট্টাচার্য্য, সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী দেবব্রত দাসগুপ্ত, উদীচী সিলেট জেলা সংসদের প্রাক্তন সভাপতি তবারক হোসেন,উদীচী সিলেট জেলা সংসদের প্রাক্তন সহ-সভাপতি মনির হেলাল, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি বেলায়েত হোসেন, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন,সংগীতশিল্পী জয়া দত্ত সেনাপতি, সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠক অসীম চক্রবর্তী, সংস্কৃতিকর্মী ও সংগঠক হিতাংশু ভূষণ কর, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র সিলেট জেলার আহবায়ক নাজিকুল ইসলাম রানা, সাবেক শাবিপ্রবি ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি কল্লোল চক্রবর্তী, প্রাক্তন উদীচীকর্মী রিংকু দেব, সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রীয় সদস্য কমরেড আফরোজ আলী, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা কমরেড সিকান্দার আলী, প্রাক্তন উদীচীকর্মী অরুন সরকার, সিপিবি সিলেট জেলা কমিটির প্রাক্তন সদস্য মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, সাংবাদিক সুনির্মল সেন, সেতারশিল্পী নাসরিন শেলী, সংগীত শিক্ষক ও নজরুল সংগীতশিল্পী বিমলেন্দু রায়, লোক সংগীতশিল্পী মালতি পাল, তবলাশিল্পী পিনুসেন দাশ, সংগীতশিল্পী পঙ্কজ দেব, সংগীতশিল্পী বাবুল বৈদ্য, জেলা পরিষদের সদস্য ও নারী জাগরণী সমিতির সভাপতি সুষমা সুলতানা রুহী, লেখক ও প্রামাণ্যচিত্রনির্মাতা নিরঞ্জন দে যাদু, বাউলশিল্পী, গীতিকার ও করিমতনয় নূর জালাল, বাউলশিল্পী ও করিমশিষ্য আব্দুর রহমান,লেখক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক তাজুল মোহাম্মদ, উদীচী জামালপুর সংসদের সহ-সভাপতি স্বপন রহমান, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি লোকমান আহমেদ, উদীচী সিলেট জেলা সংসদের সভাপতি এনায়েত হাসান মানিক, কবি শাহীন ইবনে দিলওয়ার, গীতিকার ফকির মাহবুব, বীরমুক্তিযোদ্ধা ও সিপিবি সিলেটের সাবেক সভাপতি এ্যাড. বেদানন্দ ভট্টাচার্য্য, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাড. এমাদুল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহিন, ইউকে সিপিবির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এ্যাড. আবেদ আলী আবিদ, সিপিবি সিলেট জেলার সাধারন সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য আনোয়ার হোসেন সুমন, সিলেট জেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম আহমেদ (ভিপি), প্রাক্তন সংস্কৃতিকর্মী জগৎজ্যোতি দেব পুরকায়স্থ, প্রাক্তন উদীচী সদস্য অঞ্জন কুমার পাল, সংগীতশিল্পী রক্সি আচার্য্য, এডভোকেট নিরঞ্জন দাস, লোকসংগীত শিল্পী গৌতম চক্রবর্তী, কানাডা প্রবাসী প্রাক্তন শিল্পী সংগঠক নকুল দে, এডভোকেট তানিম শাওন, সংগীতশিল্পী ও শিক্ষক স্বপন সরকার, বাচিকশিল্পী নন্দিতা দত্ত এবং বাংলাদেশের বরেণ্য নাট্য ও সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম। অনুষ্ঠানটির শেষ পর্বে অংশগ্রহণ করেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বরেণ্য গণসংগীত শিল্পী শুভেন্দু মাইতি ও শুভ প্রসাদ নন্দী মজুমদার এবং বাংলাদেশের বিশিষ্ট নাট্যকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শঙ্কর শাঁওজাল।

তাছাড়াও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন সাংষ্কৃতিক সংগঠন যারা অংশগ্রহণ করে “বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর – বরিশাল জেলা সংসদ, হবিগঞ্জ জেলা সংসদ, জামালপুর জেলা সংসদ, সুনামগঞ্জ জেলা সংসদ, ঠাকুরগাঁও জেলা সংসদ, ময়মনসিংহ জেলা সংসদ, সিলেট জেলা সংসদ, মৌলভীবাজার জেলা সংসদ ও কেন্দ্রীয় সংসদ। তাছাড়াও বকুলতলা সাংষ্কৃতিক বিদ্যাপিঠ সিলেট, সাংষ্কৃতিক ইউনিয়ন সিলেট, মৃত্তিকায় মহাকাল সিলেট, প্রার্থনা ও প্রকৃতি কানাডা, চারণ সাংষ্কৃতিক কেন্দ্র ঢাকা, বিবর্তন সাংষ্কৃতিক কেন্দ্র ঢাকা, সপ্তক, পশ্চিমবঙ্গ ,ভারত।

ভার্চুয়ালী আয়োজনকে সফল উল্লেখ করে স্মৃতি পরিষদের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলা হয়-‘যদিও ভার্চুয়ালি এমন ব্যাপক আয়োজন সম্পন্ন করাটা ছিল অনেক বড় এক চ্যালেঞ্জ, তবুও ভবতোষ চৌধুরীর প্রতি থাকা সকলের ভালবাসা, শ্রদ্ধা আর দায়বোধের জোরেই অনেক সফলভাবেই সম্পন্ন হয়ে যায় এ আয়োজন। যার কৃতিত্বের অংশিদার পর্দার সামনে ও পেছনে থাকা সকলেই’।

”ভবমেলা ২০২০”-এর বিভিন্ন পর্বের অনুষ্ঠানগুলো সঞ্চালনা করেন সমন্বয়কারী সদস্য অংশুমান দত্ত অঞ্জন, গুরুপ্রসাদ হোম চৌধুরী দেবাশীষ, পূর্বাশা চৌধুরী, মনীষা চৌধুরী, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম, ইউকে যুব ইউনিয়নের সভাপতি ইফতেখারুল হক পপলু। তাছাড়াও ভবমেলার সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্মৃতিপরিষদের অন্যতম সংগঠক বিপাশা চৌধুরী, সুদীপ্ত দে শিকদার ও লাকি চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে গণবাউল স্মারক গ্রন্থ ২০১১ স্মৃতিচারণ পাঠ করেন মনীষা চৌধুরী, শান্তনা দাশ মৌ, সজয় দাশ, অর্পিতা দেব পুরকায়স্থ এবং কমরেড ভবতোষ চৌধুরীর সংক্ষিপ্ত জীবনী পাঠ করেন সৈয়দ সাইমূম আনজুম ইভান। অনুষ্ঠানটির সম্প্রচারের কারিগরি সহায়তা, ভিডিও সম্পাদনা, পোষ্টার ডিজাইন ও মিডিয়া প্রচার করেন স্মৃতিপরিষদের অন্যতম সংগঠক গুরুপ্রসাদ হোম চৌধুরী দেবাশীষ।






Related News

Comments are Closed