Main Menu

প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, ওয়াশিংটনে জরুরি অবস্থা জারি

ডেইলি বিডি নিউজঃ মার্কিন নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের বিজয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে দেশটির কংগ্রেস। বিবিসির খবরে এমন তথ্য জানা গেছে।

পেনসিলভ্যানিয়া ও অ্যারিজোনার ইলেকটোরাল ভোট নিয়ে রিপাবলিকান দলের কয়েক সিনেট সদস্যের আপত্তিকে উড়িয়ে দিয়ে কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে এই স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। বুধবার ট্রাম্প সমর্থকেরা ক্যাপিটল হিলে হামলা ও ভাঙচুর চালালে প্রত্যয়ন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু যৌথ অধিবেশন ফের শুরু করে বাইডেনকে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় উল্টে দেওয়ার চেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে স্থানীয় সময় বুধবার দুপুরের পর হামলা শুরু হয়। হামলাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত ক্যাপিটল ভবন কার্যত দখল করে নিলে অধিবেশন মুলতবি করতে বাধ্য হয় কংগ্রেস।

পুলিশ পাহারা দিয়ে আইনপ্রণেতাদের সরিয়ে নেয়া হয় আন্ডারগ্রাউন্ড টানেলে। যৌথ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করা ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকেও পাহারা দিয়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের নেয় পুলিশ। ক্যাপিটলকে ট্রাম্প সমর্থকদের দখলমুক্ত করতে পুলিশ অভিযান শুরু করে। পরের তিন ঘণ্টায় হলওয়েগুলো দিয়ে ট্রাম্প সমর্থকদের ছোটাছুটি ও বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে খোঁজাখুঁজি,হাঙ্গামা-বিশৃঙ্খলায় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ওয়াশিংটনে জরুরি অবস্থা জারিঃ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ১৫ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বিক্ষোভের নামে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থকদের আগ্রাসী তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। খবর বিবিসির।

কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে জো বাইডেনকে জয়ী হিসেবে ঘোষণার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই হঠাৎ করে ট্রাম্প সমর্থকরা সেখানে তাণ্ডব শুরু করে। ভাঙচুরের পাশাপাশি সেখানে গোলাগুলিও হয়েছে। এর পরপরই ওয়াশিংটনে কারফিউ জারি করা হয়।

বুধবার কংগ্রেস অধিবেশনের বিরোধিতা করে ওয়াশিংটনে জড়ো হন কয়েক হাজার ট্রাম্প সমর্থক। এদের মধ্যে উগ্রপন্থি বিভিন্ন গ্রুপের সদস্যরাও রয়েছেন। ওই সমাবেশের বক্তব্যে নভেম্বরের নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নেয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প।

এদিকে, পার্লামেন্ট ভবনে সহিংসতার বিষয়ে ওয়াশিংটনের মেয়র মুরিয়েল বাউজার বলেন, ‘অনেকেই অস্ত্রসহ এখানে সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞে অংশ নিতে এসেছে। তারা অস্ত্রের পাশাপাশি রাসায়নিক দ্রব্য, ইট এবং বোতলও নিক্ষেপ করেছেন।’

জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে ওয়াশিংটন ডিসির নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য কারফিউ দেয়া, জরুরি পণ্য সরবরাহের বিশেষ ব্যবস্থা নেয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে পারবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

আগামী ২১ জানুয়ারি দুপুর ৩টা পর্যন্ত এই ঘোষণা কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ আগামী ২০ জানুয়ারি জো বাইডেনের শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে নতুন করে যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত শহরে কারফিউ জারি থাকবে।

এদিকে পার্লামেন্ট ভবনে নজিরবিহীন হামলার ঘটনায় হোয়াইট হাউসের তিন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন পদত্যাগ করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে,হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সারাহ ম্যাথিউস, সোশ্যাল সেক্রেটারি রিকি নিকেটা ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের চিফ অফ স্টাফ স্টেফানি গ্রিশ্যাম বুধবার রাতে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে সারাহ ম্যাথিউস বলেন,ট্রাম্প প্রশাসনে সেবা দিতে পেরে এবং যে নীতিগুলো আমরা গ্রহণ করেছি তাতে আমি গর্বিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমি যা দেখেছি তাতে আমি ভীষণভাবে বিরক্ত। আমি আমার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি যা এই মুহূর্ত থেকে কার্যকর হবে। আমাদের জাতির একটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর প্রয়োজন।

ইউএস ক্যাপিটল হিস্টোরিকাল সোসাইটির বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,১৮১২ সালে যুদ্ধের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট ভবন এমন আগ্রাসনের সাক্ষী হলো। ১৮১৪ সালে ওয়াশিংটনে অভিযান চালানের সময় ভাইস অ্যাডমিরাল স্যার আলেক্সান্ডার ককবার্ন ও মেজর জেনারেল রবার্ট রোসের নেতৃত্বে নির্মাণাধীন ক্যাপিটল ভবনে আগুন জালিয়ে দেয় ব্রিটিশ বাহিনী। তবে প্রবল বর্ষণের কারণে সে যাত্রায় ওই ভবনটি বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যায়।

ইউএস ক্যাপিটল হিস্টোরিকাল সোসাইটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে,পার্লামেন্ট ভবন শুধুমাত্র একটি অবকাঠামো নয়। এটি তার চেয়েও অনেক বেশি কিছু। এটি আমেরিকার গণতন্ত্র এবং আমাদের জীবন-যাপনের মূর্ত প্রতীক।

সহিংসতার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে কারফিউ ভঙ্গ করার দায়ে।

বুধবার আইন প্রণেতারা যখন নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জো বাইডেনের জয় আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করার জন্য অধিবেশনে বসেছিলেন ঠিক সে সময়েই ট্রাম্পের শত শত সমর্থক দেশটির আইনসভা কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে ঢুকে সহিংসতা চালায়।






Related News

Comments are Closed