Main Menu

নৌকার প্রার্থীকে প্রত্যাখান করে স্বতন্ত্রের পক্ষে আ’লীগের নেতাকর্মীরা

ডেইলি বিডি নিউজঃ পাবনা পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করে নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা-কর্মী।

সংবাদ সম্মেলন করে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নামা দলীয় বিদ্রোহী শরীফ উদ্দিন প্রধানের পক্ষে তাদের সমর্থন ব্যক্তি করেন এবং আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী পরিবার থেকে আসা নব্য আওয়ামী লীগার’ হিসেবে অভিহিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানান, ১৪ দল ও জাতীয় পার্টিরও কয়েকজন নেতা। এসময় ভোট অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি দাবি জানান তারা। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও হত্যা মামলার আসামিরা নির্বাচনি প্রচার প্রচারণার নামে ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে শহরের বাণী হল মোড়ের নাগরিক মঞ্চ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ উদ্দিন প্রধানের ২২ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে তারা এই দাবি করেন।

পাবনা নাগরিক মঞ্চের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ইদ্রিস আলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আব্দুল হামিদ, দফতর সম্পাদক আব্দুল আহাদ বাবু, প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি সুলতান আহমেদ বুরো, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহিন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি তসলিম হাসান সুমন, জেলা জাতীয় পার্টির সহ সভাপতি নাসির চৌধুরী, সেক্টরস কমান্ডার ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ৭১ এর সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম পাকন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ উদ্দিন প্রধান শহরে যানজট ও জলাবদ্ধতা নিরসন, চাঁদাবাজি বন্ধে মহল্লাগুলিতে পঞ্চায়েত গঠন, অত্যাধুনিক শিশুপার্ক স্থাপন, পৌরকর বৃদ্ধি না করাসহ ২২ দফা নির্বাচনি ইশতেহার পড়ে শোনান।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, পাবনা-৫ আসনের দলীয় সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স’র লাগাতার আচরণ বিধি লঙ্ঘনসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি, হুমকির একাধিক অভিযোগ রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর দাখিল করলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনও প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নাই। দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করে কেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক আব্দুল আহাদ বাবু বলেন, আমরা নৌকা প্রতীকের বিরোধী নই। ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করে স্বাধীনতাবিরোধী পরিবার থেকে আসা নব্য আওয়ামী লীগের জনৈক ব্যক্তিকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়েছে। একটি বিশেষ মহলের তদবিরে এই প্রার্থী দেওয়া হয় বলেও উপস্থিত সবার পক্ষে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, জেলা আওয়ামী লীগের ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ৬৫ জনের মধ্যে শহরের বাসিন্দা ৩৫ জন। এরমধ্যে ২৯ জনসহ সদর উপজেলা ও পৌর কমিটির সভাপতি সম্পাদকসহ প্রায় সকল নেতা ক্ষুব্ধ হয়ে একযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে মাঠে নেমেছি। আমরা দলের তৃণমূল রক্ষার তাগিদেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। তারা পুনরায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানান এবং সঠিক চিত্র তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতার অনুরোধ জানান।

আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্য প্রত্যাখান করে নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী ও জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনি বলেন, আওয়ামী লীগের আদর্শের কোনও নেতা-কর্মী নৌকা প্রতীকের বিরোধিতা করতে পারে না। যারা বিরোধিতা করছেন তারা আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিশ্বাসী নয়। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা তার সঙ্গে আছেন বলেও দাবি করেন এই প্রার্থী।






Related News

Comments are Closed