Main Menu

শিশু ফাইজার মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে মা লায়লা বেগমের মামালা দায়ের

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেটের ওসমানীনগরে আলোচিত শিশু ফাইজার মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করেন শিশু ফাইজার মা লায়লা বেগম। সিলেটের ওসমানীনগরে তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্রী ফাইজাকে ধর্ষণ করে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সিলেট আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন শিশু ফাইজার মা লায়লা বেগম। মামলায় উপজেলার গোয়লাবাজার ইউনিয়নের ব্রাম্মনগ্রামের নূর মিয়ার পুত্র উজ্জল মিয়া, সাহেল মিয়া, রুবেল মিয়া,স্ত্রী রায়না বেগম ও মৃত তেরাই মিয়ার পুত্র বাবুল মিয়াকে অভিুযুক্ত করা হয়েছে। নিহতের মায়ের দায়ের কৃত দরখাস্ত অভিযোটি ব্যাপক পর্যলোচনা করে সিলেটের সিনিয়র জেলা জজ ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এর বিচারক মো.মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অর্ন্তভুক্ত করেন। এবং এ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্যদি আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আদালতে প্রেরণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আদেশ জারি করেন। মামলা নং ১৬২/২১।

জানা যায়,২৫ জানুয়ারি শিশু ফাইজার পিতা তুরণ মিয়া কাজে থাকাবস্থায় বিকেলে মা লায়লা বেগম মেয়েকে ঘরে রেখে ছোট ছেলেকে নিয়ে বাজারে যান। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাড়িতে ফিরে দেখতে পান তাঁর বসত ঘর থেকে তারাহুরা করে তার ভাসুরের স্ত্রীসহ তার ছেলেরা বেড়িয়ে যাচ্ছেন। এসময় তিনি দ্রুত বসত ঘরে ঢুকে বাঁশের তীরের সাথে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিক লায়লা বেগম চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে কয়েকজন ছুটে এসে ঘরের লাইট বন্ধ করে ওড়নার গিট্ট খোলে ফাইজার দেহ নামিয়ে আনে। এসময় লায়লা বেগম লাইট নিভানোর কারণ জানতে চেয়ে আরও জোড়ে চিৎকার শুরু করলেও তারা দ্রুত ফাইজাকে নিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে সোমবার রাতে ওসমানীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উজ্জল,সোহেল ও রুবেলকে থানায় নিয়ে আসে। ফাইজাকে ধর্ষণ করে হত্যার অভিযোগে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ কৌশলে ময়না তদন্তের ডাক্তারী রির্পোটের দোহাই দিয়ে আটককৃতদের পুলিশ ছেড়ে দেয়।

এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও পুলিশের উর্ধ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্বারকলিপিও প্রদান করা হয়।

নিহতের মা লায়লা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ঘাতকরা লাশ ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে রেখে তারা গাঁ ডাকা দিতে চেয়েছিল। থানা পুলিশকে বার বার অবহিত করার পরও পুলিশ আটককৃতদের ছেড়ে দিয়ে অপমৃত্যুর মামলা রুজু করে। অবশেষে এ বিষয়ে আমি আদালতে অভিযোগ দায়ের করলে আদালত তা মামলা আকারে অর্ন্তুভুক্ত করেছেন। আমি আশাবাদি আদালতের মাধ্যমে আমার একমাত্র মেয়ে হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। বাদি পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আনোয়ার হোসেন বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে জড়িতরা লাশ ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে গাঁ ঢাকা দেয়ার পায়তারায় লিপ্ত ছিল। পরবর্তীতে মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে অভিযুক্তরা বেশ কৌশল অবলম্বন করে যাচ্ছে লায়লা বেগমের এমন অভিযোটি পর্যালোচনা পূর্বক আদালত মামলাটি আমলে নিয়েছে। সার্বিক বিষয় বিবেচনা পূর্বক শিশুটির সাথে নৃশংসতাকারীদের আদালতের মাধ্যমে অবশ্যই আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারবেন বলে জানান তিনি।






Related News

Comments are Closed