Main Menu

চারখাই নামের প্রস্তাবিত থানার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নকে অর্ন্তভুক্তির প্রতিবাদে উত্তাল হচ্ছে কানাইঘাট

কানাইঘাট প্রতিনিধি: সিলেট জেলার প্রচানী বৃহত্তর জৈন্তিয়া অঙ্গরাজ্যের অর্ন্তগত কানাইঘাট থানার ঐতিহ্যবাহী ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে রয়েছে প্রায় ৫২ হাজার মানুষের বসবাস, রয়েছে ইউনিয়নের নিজস্ব ঐতিহ্য কিংবা সার্বভৌমত্ব্য আর আন্দোলনের ইতিহাস। ইউনিয়নের মৌলিক দাবী আদায়ে ইউনিয়নের ৫২ হাজার মানুষে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধর্ম-বর্ণ,জাত-মত,ধনি-গরিব,সাদা-কালোসহ সকল রাজনৈতীক মতাদর্শের উর্দ্ধে উঠে মাঠে ঝাপিয়ে পড়তেন। বিগত ২০২০ সালে হঠাৎ করে প্রকাশ্য আসে উক্ত ইউনিয়ন সহ পাশ্ববর্তী ৮নং ঝিঙ্গাবাড়ী ৭নং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নকে কানাইঘাট থানা থেকে কেঠে নিয়ে পাশ্ববর্তী সুরমা নদীর ওপারের বিয়ানীবাজার থানার চারখাই নাম স্থানে একটি প্রশাসনিক নতুন থানা হচ্ছে। সত্যতা পেয়ে আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে উক্ত তিনটি ইউনিয়নের স্থানীয় জনসাধারণ। আন্দোলনের একপর্যায়ে জানা যায়, শুধু মাত্র কানাইঘাটের ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নটি চারখাই নামের প্রশাসনিক থানার অর্ন্তভুক্ত করা হচ্ছে। যার কার্যক্রমও অনেক দূর এগিয়ে গেছে। ফলে ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের সর্বস্থরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ আন্দোলনের ডাকদেন ইউনিয়নের বাসিন্ধা সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল হালিম সাগর। রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন নাগরিক কমিটির ব্যানারে ডাকা আন্দোলনে ইউনিয়নের সর্বস্থরের মানুষের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বৃহত্তর গাছবাড়ী এলাকার সুশিল সমাজ একাত্বতা ঘোষণা করেন। সবাই একমঞ্চে দাড়িয়ে ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রæয়ারী একদফা একদাবী ‘বিয়ানীবাজার উপজেলার অর্ন্তগত প্রস্তাবিত চারখাই নামের প্রশাসনিক থানার অন্তর্ভক্ত হতে চাই না, আমরা কানাইঘাটে আছি ভাল আছি, আমরা জৈন্তাপুরি আমরা গর্বিত। এমন শ্লোগান ছড়িয়ে পড়ে সবার মুখে মুখে। স্বরণ কালের সেরা সমাবেশ অনুষ্টিত হয় রাজাগঞ্জ বাজারস্থ মাদ্রাসা মাঠে। স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ সদস্যসহ বিভিন্ন মহল পাশে থেকে এবং সক্রিয় অংশ গ্রহণ করে শক্তি সাহস যোগান আন্দোলনে। ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের সার্বভৌমত্ব্য রক্ষার নাগরিক কমিটির ব্যানার নিয়ে নাগরিক কমিটির মুখ্যপাত্র সাংবাদিক আব্দুল হালিম সাগরসহ আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা আবেদন নিয়ে গিয়েছিলেন পুলিশের সাবেক আইজিপি ড.জাবেদ পাটোয়ারী সিলেটের ডিসি, এসপি, বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় পর্যন্ত। যেই আন্দোলন আর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বন্ধ হয়ে যায় প্রস্তাবিত চারখাই নামের প্রশাসনিক থানা বাস্তবায়নের কার্যক্রম। যেটি সম্প্রতি ১ বছর ১দিন পর গতকাল ১৫ ফেব্রæয়ারী সোমবার চারখাইতে একটি অনুষ্টানে বিষয়টি অপকটে স্বীকার করেছেন সিলেটের বর্তমান পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন পিপিএম। ১৫ তারিখের সেই অনুষ্টানের ব্যানারে একটি কলেজের বৃত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পাশাপাশি “চারখাই নামের প্রস্তাবিত থানার জমি পরিদর্শণ” করতে যান সিলেট পুলিশ সুপার, সার্কেল অফিসার, বিয়ানীবাজার, জকিগঞ্জ থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্টানে পুলিশ সুপারের বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে ছড়িয়ে পড়লে, আবার মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয় কানাইঘাটের সচেতন মহলে। এ বিষয়ে কথা হলে রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন নাগরিক কমিটির মুখ্যপাত্র সাংবাদিক আব্দুল হালিম সাগর জানান, গতকাল পুলিশ সুপারের বক্তব্য শুনে মনে হলো মা থেকে মাসির দরদ-ই একটু বেশী। রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের মানুষের ভাগ্য আকাশে কি কোন শনি ভর করেছে? ঘুরে ফিরে আমাদের ইউনিয়নটি নিয়ে টানা-টানি শুরু হয়। এসপি সাহেব সুস্পষ্ট ভাবে চারখাই নামের প্রস্তাবিত থানার অর্ন্তভূক্তি নিয়ে রাজাগঞ্জ ইউনিয়নবাসীকে বেশ সুযোগ সুবিধার বিবরণ দিলেন। চারখাইয়ের ভ‚গৌলিক আর গুণকৃর্তন করতে ভুল করেননি। কিন্তু তিনি আমাদের সুরমার উত্তর-পশ্চিম পাড়ের মানুষের উপরের দক্ষিণ-পূর্ব পাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের জুলুম নির্যাতন, শোষন শাসনের ইতিহাস না জেনে এমন বক্তব্য আমাদের মর্মাহত করেছে। আমরা ৯নং রাজাগঞ্জের মানুষ আদিকাল থেকে কানাইঘাটের সাথে আছি, খুব ভালই আছি। আমরা এখনো গর্ববোধ করতে পারি আমরা জৈন্তাপুরি। আমাদের রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস,ঐতিহ্য। নদীর দক্ষিণ পূর্বপারের মানুষের সাথে উত্তর পশ্চিম পারের মানুষের কালচারের কোন অবস্থাতে মিলেনা আর মিলবেনা কোনদিন।
বিয়ানী বাজারের চারখাইতে থানা কিংবা জেলা সদর হউক। ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন মানুষের কোন আপত্তি নেই। তবে কোন ভাবেই কানাইঘাটের ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের ভূগৌলিক অবস্থান নিয়ে টানা হেচড়া না করার অনুরোধ জানান তিনি। কেমন করে আমাদের মৃত ভাইয়ের লাশ আটকিয়ে নদীর ঘাটে হাজার টাকা আদায় করা হতো, বয়বৃদ্ধদের উপরে অমানষিক নির্যাতন করা হতো। তা আমরা এখনো ভ‚লিনী।
সিলেট জেলা সদর বলেন আর উপজেলা সদর বলেন কোথায়ও যেতে আমাদের এখন টেক্স দিতে হয়না। এসপি সাহেব ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের ৫২ হাজার মানুষের প্রতি এতো উদার হন, আইনের সঠিক সেবার কথা ভাবেন। তাহলে ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে একটি পুলিশ ফাঁড়ি (তদন্ত কেন্দ্র) স্থাপনের দরখাস্ত পড়ে আছে উনার টেবিলে। সেটি যদি বাস্তবায়ন করেন রাজাগঞ্জের মানুষ উনার প্রতি চিরোকৃতজ্ঞ থাকবো। যে নির্দেশিকাটি চলতি মাসের ২ তারিখে সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি অফিস হতে এসপির কাছে প্রেরণ করা হয়েছে। কোন জনপ্রতিনিধির সাথে গোপন আলোচনা না করে, এসপি উন্মুক্ত ভাবে রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের মানুষের মনের কথা শুনতে পারেন। ইউনিয়নের সর্বস্থরের মানুষ নিয়ে আমরা আবারো আন্দোলন, সংগ্রাম করবো। প্রয়োজনে সকলে সাথে কথা বলে উচ্চ আদালতের স্বরণাপন্ন হবো, বিষয়টি আমাদের প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।






Related News

Comments are Closed