Main Menu

নারী: সুসন্তান বিনির্মানের পাঠশালা

শাহিদ হাতিমীঃ আজ ৮মার্চ, বিশ্ব নারী দিবস ছিল! আমার সহধর্মিণী কেমনে এই সংবাদ পেয়ে বললেন “কতরকম আগডুম বাগডুম নিয়েই লেখালেখি করো, কিন্তু মেয়েদের জন্য একটা নারী দিবস থাকা সত্ত্বেও একটু ভালো দিক লেখতে পারো না! কারন নারীদের পক্ষে লিখলে আমার (স্ত্রীর) প্রশংসা চলে আসবে তাই”!! বললাম তোমার কথায় হয়তো যুক্তি আছে, কিন্তু নারী সমাজের বিপক্ষে আমি কখনো লিখেছি কী? এরপর সেই ২০১৫ সালে প্রকাশিত একটি ছোট্ট ফিচারধর্মী লেখা দেখিয়ে বললাম বরং তুমি আমার স্ত্রী ছিলেনাকালেও সম্মানিত নারীসমাজের পক্ষে আমার কলম ছিল!! কিছুটা সংযোজন করে পুরানো লেখাটিই পুণঃপোস্ট!!!

আজকাল এক শ্রেণির মানুষ মেয়েদেরকে বাকাচোখে দেখে ৷ মেয়েদেরকে অবলা উপাধী দিয়ে টিপ্পনি খাটে ৷ নানান উপায়ে নিন্দিত করে মেয়েদেরকে উপস্থাপন করে সমাজে ৷ মেয়েদেরকে সমাজের বিশাল বোঝা মনে করছে ৷ তারা ভুলে যাচ্ছে মেয়েরাও মানুষ ৷ সমাজের বিশাল অংশ এই মেয়েরা ৷ মেয়েদের প্রতি অহেতুক অনিহা কেন? মেয়েরা তো ছেলেদের মতো নয়। ছেলেরা স্বাধীন, মুক্ত পাখির মত। যখন যা খুশি তাই করতে পারে, কিন্তু একটি মেয়ের ব্যাপার সম্পূর্ণ আলাদা। মেয়েটি সবসময় কোন না কোন কিছুর কাছে আবদ্ধ থাকে। সে বাঁধা থাকে পরিবারের অনুশাসনে, প্রিয় মানুষটির কাছে, জন্মের পর থেকেই মেয়েরা হাজারটা “না” এর মধ্যে বড় হয়। হে মায়ের জাতি মেয়ে- প্রিয় বোন, আপনাদেরকেও সচেতন হতে হবে ৷

একজন নারী যখন আপনার স্ত্রী, সে আপনাকে খুব ভালোবাসে বলে আপনার হাতধরে পরম নিশ্চিন্তে পথ চলতে পারে। মেয়েরা অনেকটা অবুঝ,সে আপন মানুষটিকে অনেক বিশ্বাস করে,তাইতো আপনার ভালবাসার চাহিদা মিটানোর জন্য বাধ্য হয়। কিন্তু, এতকিছুর পরও আপনি মধুর সম্পর্কের তথাকথিত ব্রেকআপ করে ফেলেন,তার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করেন,ইমোশনালি অত্যাচার করেন,অনেকে তো আবার মারধোরও করেন।

ডিভোর্স বানিজ্যও ইদানিং বেড়ে গেছে ৷ খুব খারাপ লাগে যখন দেখি, নীরবে নির্যাতিত হচ্ছে মেয়েরা। অবশ্য মেয়েদেরও অনেকটা দূষ আছে৷ আছে অসচেতনতাও ৷ বিশেষত মেয়েরা বেপর্দা চলা ফেরার সুবাদে তাদের প্রতি এমন ধারণা অনেকের ৷ মেয়েদের মন খেলনার রঙ নয়, আমাদের সমাজ বুঝতে ভুল করে, আপনি কি জানতে চান মেয়েদের মন কেমন? মেয়েদের মন খুব নরম, শান্ত শীতল, উদার, সেই মন যখন কারো প্রতি নুয়ে পড়ে তখন আরো নরম হয়ে যায়,কিন্তু তারা সেটা প্রকাশ করতে পারেনা,হয়তো করতে চায়না। অসীম ধৈর্য, ত্যাগ, কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে মেয়েদের,আপনজনদের খুশী রাখার জন্য নিজের সবকিছুকে বিসর্জন দেয়ার ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা একমাত্র মেয়েদেরকে হয়তো দিয়েছেন। আপনাকে খুশি করার জন্য, আপনার মন রক্ষার জন্য সে তার ইচ্ছে গুলোকে মাটিচাপা দেয়।

নারীদের জন্মের পর থেকেই ত্যাগ করতে হয় অনেক কিছু,মধ্যবিত্ত পরিবারে যদি ছেলে বড় হয়,আর মেয়েটি ছোট হয়,তাহলে চাওয়া পাওয়ার দিক থেকে অনেক বাবা-মা ছেলের আবদারগুলোকে আগে প্রাধান্য দেন। মেয়েটিকে এই বলে বুঝানো হয় যে,তোর বড় ভাই সংসারের বড় ছেলে ওকে তাড়াতাড়ি বড় হয়ে সংসারের হাল ধরতে হবে,পরে তুই তোর ভাইয়ের কাছে ইচ্ছেমত আবদার করতে পারবি”মেয়েটিকে সবসময় আশার আলো দেখানো হয়,কিন্তু তা পূরণ করা হয়না। সে কোন বিষয় নিয়ে পড়ালেখা করতে চায়, তার কি করতে ভালো লাগে তা জিজ্ঞেস না করেই পরিবারের বড়দের বিশেষ করে বড় ভাইয়ের ইচ্ছেগুলো তার উপর চাপিয়ে দেয়া হয়।

অথচ নারীরা কতোই না,সম্মানের পাত্র আমরা দিব্যি ভুলে যাই! পবিত্র আল কুরআনে ছেলে (পুরুষ) বলে কোন সুরা নেই, কিন্তুু মেয়ে (নারী-নিসা) বলে সুরা আছে ৷ এতে বুঝাগেলো কুরআনেপাকেও মেয়েদের বিশেষ সম্মান দেয়া হয়েছে। তাছাড়া-পৃথিবীতে যত নবী রাসূল এসেছেন, গৌছ কুতুব এসেছেন,ওলী আউলিয়া জন্মগ্রহন করেছেন-সবাইতো কোন না কোন মায়ের গর্বে হয়ে এসেছেন ৷ মেয়ের সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহন করেছেন ৷

জনৈক কবি বলেন- এই বিশ্বের যা কিছু মহান সৃস্টির চিরকল্যাণকর,অর্ধেক তার গড়িয়েছে নারী অর্ধেক তার নর ৷ একটি মেয়েকে জন্মের পর থেকে ত্যাগ করে করে এগুতে হয়। অপ্রকাশিত রাখতে হয় মনের অনুভূতিগুলো। ত্যাগ করতে হয় সহপাঠীকে, পিতার ঘর ত্যাগ করতে হয়, বিয়ের পর ত্যাগ করতে হয় তার নাম,সন্তান লাভের পর ত্যাগ করতে হয় তার রাতের ঘুম,খাওয়া-দাওয়া। সন্তান বড় হয়ে খারাপ আচরণ করলে ত্যাগ করতে সন্তানকে নিয়ে তার সমস্ত আশা-ভরসাকে। আবার ছেলের বউ যদি খারাপ হয়, তাহলে ত্যাগ করতে হয় তার আপন স্বামীর ঘর, মেয়েটির শেষ জীবনের ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রম, আর একমাত্র সঙ্গী বলতে থাকে চোখের জল!!

মেয়েরা সমাজের বুজা নয়,বিশ্বনবী মুহাম্মাদ স. বলেছেন-যে একটি কন্যা সন্তানের জনক হলো এবং তার কন্যাকে ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী বড় করলো সে একটি জান্নাতের মালিক হলো ৷ বর্ণিত রয়েছে – মায়ের (মেয়ে) পায়ের নীচে সন্তানের বেহেশত ৷ একটি মেয়ের মন এটাই চাই যে,কেউ তাকে এতোটা ভালোবাসুক যতটা ভালোবাসা কেউ কাউকে বাসেনি আগে। অগোছালো প্রিয় মানুষটিকে ভালোবাসার মায়ায় যত্ন করে গুছিয়ে তোলার কাজ একটি পবিত্র মনের নারী খুব সুন্দর করে করতে পারে। জনৈক গবেষক বলেছেন- “মায়াবতীর কোন পুরুষবাচক শব্দ নেই!

মেয়ে রাগ করে আপনি রাগ ভাঙাবেন বলে, অভিমান করে অভিমান দূর করাবেন বলে। মেয়েরা সৃষ্টিকর্তার অপরূপ সৃষ্টি। একটি মেয়ে হয় কারো মেয়ে, কারো বোন, কারো স্ত্রী,কারো মা,কারো ফুফু,কারো খালা, কারো চাচী,কারো মামী, কারো শাশুড়ী। মেয়েদের মন একটা জিনিস চায় সেটি হল প্রিয় মানুষটির কাছ থেকে অফুরন্ত ভালবাসা। বাবা-মা,ভাই,স্বামী,সন্তান, সন্তানের বউ,শ্বশুর,শাশুড়ি,সমস্ত আপনজনদের কাছ থেকে ভালবাসা চায় একটি নারীর মন। মেয়েদের সেই নরম মনে কখনো আঘাত করতে প্লিজ ভাবুন! কখনো কষ্ট না দেবার চেষ্টা করুন। একটি মেয়েকে শুধু বৈধভাবে আপন করে ভালবাসুন,সমস্ত পৃথিবীর সাথে লড়াই করবে শুধু আপনার জন্য। সেই আপনি হতে পারেন তার ভাই, পিতা, সহপাঠী,তার স্বামী, কিংবা তার ছেলে। জনৈক গবেষক বলেছিলেন-আমাকে একজন সৎ-আদর্শবান মা দিলে, আমি একটি অদর্শবান জাতি উপহার দেবো”! সুতরাং একজন নারী সুসন্তান নির্মানের পাঠশালা।






Comments are Closed