Main Menu

নৌকা চালিয়ে সংসার চলে প্রতিবন্ধী মাসুক আলীর

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : মাসুক আলী। বয়স ৩০ বছর। বাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোলগাঁও গ্রামে। তাঁর পিতা ফজর আলী। শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়া সত্ত্বেও পেটের দায়ে চাচার নৌকায় দিয়ে কাজ করে সংসার চালান এই অদম্য যুবক। বিগত ২ বছর ধরে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। মাসুক আলীর উপার্জনেই চলছে তার পরিবার। তাঁর স্ত্রী – একটি সন্তান, মা-চার ভাই, দুই বোন রয়েছে। নৌকায় যাত্রীদের পাড়াপার করে যে আয় করেন তা দিয়েই কোনোমতে তাদের পরিবার চলে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর পিতা অসুস্থ। এরপর থেকে মাসুক আলী সংসারের হাল ধরেন। তাঁর নিজ বাড়ি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত খেয়াঘাট । এ খেয়াঘাটের চাচা রমজান আলীর নৌকায় দিয়ে নানা শ্রেনী পেশারনলোকজনকে পাড়াপার করেন মাসুক । দিন ১০০থেকে ১৫০ টাকা মিলে । অভাব-অনটনের সংসারে মা-ভাই-বোনদের তাঁর পরিশ্রমের রোজগারে টাকায় সামান্য খেয়ে পরে জীবন কাটছে।

২০১২ সালে জটিল রুগে আক্রান্ত হয়ে ব্রেইন অপারেশন করা হয়। এর পর থেকে শারীরিক প্রতিবন্ধী হয় মাসুক। অভাবের সংসার শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়েও বাধা হতে পারেনি তাঁর কর্মজীবন। কুঁড়েঘরে বেড়ে ওঠা মাসুক দরিদ্র পরিবারের বড় সন্তান। প্রতিবন্ধী মাসুক আলী নিজ পায়ের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ানোর শক্তি ও সামর্থ্য নেই। তবুও সে থেমে নেই। জীবন যুদ্ধের লড়াইয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে সকল বাধা-বিপত্তিকে পেছনে ফেলে বেছে নিয়েছে কর্মজীবন।

মাসুক আলী জানান, তার ব্রেইন অপারেশনের পর থেকেই তিনি প্রতিবন্ধী। তাঁর পিতা অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই সংসারের হাল ধরেন তিনি। তাই বাধ্য হয়ে নৌকায় কাজ বেছে নেই। প্রতিদিন সকালে কাজে যাই, আর রাত ৮ টায় বাড়ি আসি। প্রতিবন্ধী ভাতা ও কাজের টাকায় খুবই কষ্টে চলে আমাদের সংসার। আমার এ কাজের কোনো নিশ্চয়তা নেই। মাঝে মাঝে শরীর খারাপ থাকলে কাজ করতে পারি না। আর আমি কাজ না করলে সংসার চলবে না। নিজের একটা দোকান থাকলে কাজের নিরাপত্তা পেতাম। কিন্তু সাধ্য থাকলেও সামর্থ্য নেই বলে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন পরিশ্রমী এই মানুষটি। শারীরিক প্রতিবন্ধিতা তাকে জীবনের কাছে হার মানাতে পারেনি। নিজের সদিচ্ছা থাকলে মানুষ অনেক কিছুই করতে পারে দৃষ্টান্ত প্রতিবন্ধী মাসুক আলী।

তিনি আরো জানান, আমার মতো প্রতিবন্ধীরা সমাজের চোখে অবহেলিত হিসেবে বিবেচিত। আমি সমাজের চোখে বোঝা হয়ে বাঁচতে চাই না, নিজের কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে একজন আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসেবে বাঁচতে চাই এই সোনার বাংলাদেশে। তবে এলাকার বিত্তবান কিংবা সরকারি কোনো সহায়তা পেলে তিনি নিজে ব্যবসা করার ইচ্ছা রযেছে বলে জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা হাসােরগাওর মকবুল হোসেন বলেন, মাসুক আলী প্রতিবন্ধী হলেও সে সমাজের বোঝা নয়। সে নিজে কর্ম করে সংসার চালায়। প্রতিদিন তাঁর কর্মস্থলে যথাসময়ে আসতে দেখা যায়। এ কর্ম মাধ্যমে তাদের পরিবার চলে। সে একজন ভালো ছেলে।

উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো কাউছার বাহার বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমরা তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা সত্যজিত রায় দাশ বলেন, তিনি (মাসুক আলী) চাইলে তাকে সরকারি সকল সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।






Related News

Comments are Closed