Main Menu

বাংলাদেশের ইএনটি লিজেন্ড অধ্যাপক আলাউদ্দীনের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মিনহাজুল আবেদীন নাঈমঃ আমাদের বড় চাচা অধ্যাপক এম,আলাউদ্দিনের আজ দশম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি ১৯৪৫ সালের ১২ই আগস্ট সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় স্কুল কলেজের পর তিনি সিলেট মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। ১৯৬৮ সালে তিনি কৃতিত্বের সাথে এমবিবিএস পাস করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি পিজি হাসপাতালে কর্মরত থাকাকালীন ১৯৭৩ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য বিলেতে যাত্রা করেন। সেখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি ও লেখাপড়া চালিয়ে যান। ১৯৭৮ সালে তিনি ডিএলও এবং এফআরসিএস ডিগ্রী লাভ করেন। ১৯৭৯ সালে দেশে ফিরে আসেন। কিছুদিন সিলেটে কাজ করার পর তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং আজীবন এখানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনি ছিলেন ১ম নাক কান গলা ও হেড-নেক বিভাগের চেয়ারম্যান। ২০০৬ সালে তিনি মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং দীর্ঘ ৫ বছর যুদ্ধ করে ২০১১ সালের ৪ঠা এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন। অবসান ঘটে এক বর্ণিল জীবনের।

অধ্যাপক ডাঃ এম,আলাউদ্দিন ছিলেন একজন সফল চিকিৎসক,শিক্ষক,গবেষক ও মানব হিতৈষী। চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে নিরন্তর গবেষণাকে তিনি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। গতানুগতিকতার বাইরে অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে, নিত্যনতুন পন্থা পদ্ধতি প্রক্রিয়া অনুধাবন অনুসরণে চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নয়নে তিনি ছিলেন সদাসচেষ্ট ও নিবেদিত নিষ্ঠাবান। বাংলাদেশে উনার চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত বৈপ্লবিক ও বিজ্ঞানসম্মত।

বাংলাদেশে নাক,কান,গলা ও হেড-নেক ক্যান্সারের এবং প্রসার দুটোই ঘটেছিল এই কৃতী ব্যাক্তির হাতে। মানুষের প্রতি ভালবাসা ছিল অপরিসীম। তারই ফলশ্রুতিতে তার স্বপ্নের ঠিকানা হিসেবে আগারগাঁও-এ গড়ে উঠেছে ইএনটি ও হেড-নেক ক্যান্সার ফাউন্ডেশন হাসপাতাল যেখানে স্বল্পমূল্যে মানুষকে চিকিত্সা দেয়া হয়। তার গড়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানটি আজ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার অনুকরণীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। সহমর্মিতা ছাড়া চিকিৎসা হয় না-এই শিক্ষা দিয়ে গেছেন তিনি। দেশবাসী তাকে ও তার কর্মকে আজীবন স্মরণে রাখবে।

বড় চাচা এমন একজন মানবহিতৈষী ছিলেন যিনি আমাদের সবাইকে উন্নয়নমূলক কাজ শিখিয়ে গেছেন: কার জন্য করছি সেটা না ভুলে কাজ করে যাওয়া শিখিয়েছেন একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ার মাধ্যমে। তার প্রস্থান আমাদের জন্য বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে তবে আমরা বিশ্বাস করি তার কর্ম আমাদের সারাজীবন অনুপ্রেরণা যোগাবে, যোগাবে গোটা বিশ্বকেও।

তিনি দেশকে ভালবাসতেন। বিদেশের ভাল চাকরি ছেড়ে এ দেশে চলে এসেছিলেন। তিনি নিজেই একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান। চিকিৎসা জগতের বাইরেও তিনি মহান সামাজিক দায়িত্ব পালন করে গেছেন। স্বাস্থ্যসেবায় আত্মনিয়োগের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার মাধ্যমেই আমরা অধ্যাপক ডাঃ এম আলাউদ্দিনের আদর্শ ও শিক্ষা সমুন্নত রাখতে এবং তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে পারি।

অধ্যাপক ডাঃ এম আলাউদ্দিনের প্রস্থান বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবা জগতে এক অপূরণীয় শূন্যতার জন্ম দিয়েছে। তিনি শুধু এই দেশে নাক কান ও গলা রোগের চিকিৎসার পথিকৃৎ পুরুষই ছিলেন না,ছিলেন এক নক্ষত্রতুল্য মানবহিতৈষী।

আমাদের বড় চাচা অধ্যাপক ডাঃ এম আলাউদ্দিন চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন সিলেটের শ্রীরামপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তার মা-বাবা ও ছোট ভাই এডভোকেট আক্তার উদ্দীনের পাশে। এই মহান ব্যাক্তিকে আমরা কোনদিন ভুলব না। আজ তার রূহের মাগফেরাত কামনা করি। মহান আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুন।






Related News

Comments are Closed