Main Menu

সংগীত-ভুবনে নিজের প্রতিভার স্থায়ী স্বাক্ষর রাখতে চান সিলেটের লোকসংগীত শিল্পী ইমা দাস

ডেইলি বিডি নিউজঃ মানুষ তাঁর স্বপ্নের চেয়ে বড়’। প্রতিটি মানুষের অবচেতনে প্রোথিত থাকে চিরন্তন প্রতিভার বীজ। জন্মগতভাবেই মানুষ মেধাবী, কিন্তু এই সুপ্ত মেধাকে বিকশিত করতে হয় স্বপ্নের সফলতার জন্য। এজন্য প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে অবিচল সাধনা। শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ে সফলতার জন্য সাধনার বিকল্প নেই। নিয়তি নির্ভর মানুষের প্রতিভার সমাধি অনিবার্য। সুতরাং সময়চক্রকে লালন করে কখন কার প্রতিভার ঝিলিক দেখা যাবে বলা মুশকিল। ইচ্ছে শক্তি আর নিয়মিত চর্চায় বিকল্প কিছু নেই। প্রস্তুতির সামান্য অসতর্কতায় কত যে সম্ভাবনা ঝরে যায় অকালে, কে রাখে তার হিসাব! কেউ জানেও না এই ঝরে যাওয়াদের গল্প।

বাঙালি সংস্কৃতির মূলধারা আমাদের বাংলা লোকগান। এই বাংলাগানের ইতিহাসও প্রাচীন।
রবীন্দ্র, নজরুল ছাড়াও কত-শত গীতিকবির গানে বাংলাসাহিত্য হয়েছে অলংকৃত। হালের উদীয়মান শিল্পীরা বহুমাত্রিক গানে জয় করে যাচ্ছে সংগীত ভুবন। যা আগতদের জন্য আশা জাগানিয়া। শত প্রতিভা আলোকিত করে রেখেছে আমাদের সংস্কৃতি ভুবন।

ইমা দাস আত্মবিশ্বাসী, পরিশ্রমী ও প্রতিশ্রুতিশীলতায় পরিপূর্ণ এক উজ্জ্বল প্রতিভা। ঝিলিক দেয়া সম্ভাবনাময় একজন সংগীত শিল্পী। সিলেটের বিশ্বানাথে জন্ম নেয়া এ শিল্পী সংগীতের হাতেখড়ি নেন মা রত্না দাস-এর হাত ধরে।

শিশুকালেই সংগীত চর্চা শুরু তার। মায়ের শেখানো গানের পাশাপাশি যে কোনো গান শোনা মাত্রই আয়ত্ব করে নিতে পারা এবং তা অবলীলায় হারমোনিয়ামে তোলাটা ছিল তার জন্য সহজকর্ম।

শৈশব থেকেই মায়ের শিক্ষা আর শিক্ষকদের উৎসাহে ইমা অংশ নেন নানা প্রতিযোগিতায়। জাতীয় স্কুল সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার ও সনদ অর্জন করেছেন বহুবার। প্রতিযোগিতায় রবীন্দ্র সংগীত, নজরুলগীতি ও আধুনিক গানে ছিল তার সমদখল।

প্রীতি রন্জন দাস ও রত্না দাসের তৃতীয় সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান ইমা দাস। ২০০৮ সালে বিশ্বনাথ হাজী মফিজ আলী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন। নূরজাহান ম্যামোরিয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন ২০১০ সালে। ২০১৩ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ থেকে। বর্তমানে তিনি সিলেট শিল্পকলা একাডেমির সংগীত বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থী।

২০১৪ সালে ইমা দাস দ্বৈত জীবনের যাত্রা শুরু সিলেটের সাহিত্যাঙ্গনের প্রিয় মুখ একাধিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রধান উদ্যোক্তা, কবি-সাংবাদিক, লেখক ও কলেজ শিক্ষক সৌদিপ মোহন মিহির (মিহির কান্তি দাস) এর সঙ্গে। ২০১৬ সালের ১২ মার্চ ইমা-মিহিরের ঘর আলোকিত করে জন্ম নেয় একমাত্র কণ্যা পৌলমী দাস নিধি। সুখী দাম্পত্য জীবন এই সংস্কৃতিসেবী যুগলের।

ইমার শিশুকালের প্রতিভায় ভর করে সংগীত চর্চা অব্যাহত রেখেছেন। বাংলাদেশ বেতারের শিল্পী শংকর ধরের কাছে তালিম নিচ্ছেন নিয়মিত। জীবনসঙ্গীর সর্বাত্মক সহযোগিতায় ইমা দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছেন সংগীতের নানা শাখা-উপশাখায়। ‘ইমা মিউজিক’ নামে রয়েছে তার লোকগানের ইউটিউব চ্যানেল। এ ক্ষেত্রে স্বামী মিহির তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

লোকগানে নিজের অবস্থানের জানান দিতে চান ইমা। বিশিষ্ট লোকশিল্পীদের তালিকায় নিজের নাম দেখতে চান ইমা। লালন শাহ, হাসন রাজা, রাধারমন, বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিমসহ মরমী শিল্পীদের গান নিয়ে কাজ করার আগ্রহও তার অপরিসীম।

সংসার ও পড়াশোনার ফাঁকে ইমার অবসর কাটে বই পড়ে, গান শুনে ও নতুন গানের চর্চায়।
সাধ, সাধনা ও সাধ্যের সমন্বয়ে ইমা তার স্বপ্রতিভার স্বাক্ষর রেখেই সংগীতে নিজের নাম উজ্জ্বল বর্ণে লিখবে। গানের সুর, তাল ও লয়ের সাথে নিজেকে নিয়ে যাবে উচ্চতার অনন্য এক মাত্রায়






Related News

Comments are Closed