Main Menu

আমি সাক্ষী দিচ্ছি জাকির মহানগর যুবলীগের মানুষ’

ডেইলি বিডি নিউজঃ অস্ত্র ও মাদক নিয়ে গ্রেপ্তার হওয়া জাকিরুল আলম জাকিরকে নিয়ে সিলেটে মহানগর যুবলীগের মাঝে চলছে টানাপোড়ন। জাকির মহানগর যুবলীগের কোন কর্মী নয় বলে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিচ্ছেন সিলেট মহানগর যুবলীগের নেতৃবৃন্দ। অপরদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সিলেটে মহানগর যুবলীগের কর্মী বলে স্ট্যাটাস দিয়েছেন সিলেট মহানগর যুবলীগের প্রথম কমিটির দপ্তর সম্পাদক মেহেদি কাবুল।এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শুরু হয়েছে তোলপাড়।

মঙ্গলবার (৪ মে) সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি ও সাধারণ সম্পাদক মুশফিক জায়গীদার এক বিবৃতিতে বলেন, জাকিরুল আলম জাকির (৪১) মহানগর যুবলীগের কোন কর্মী নয়। ওই বিবৃতির পরই বুধবার রাতে মেহেদি কাবুল তার নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি স্ট্যাটাস দেন।

বুধবার রাত ৩টা ২১ মিনিটে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাসে তিনি বলেন,

‘জাকির অপরাধ করলে তাঁর শাস্তি চাই, বিচারে দোষী প্রমাণ হলে বহিষ্কার চাই, জাকিরের অপরাধ ব্যক্তিগত, এর দায় বার সংগঠন নিবে না, কিন্তু জাকির মহানগর যুবলীগের কেউ নয় এটা মেনে নিতে পারলাম না। আমি সিলেট মহানগর যুবলীগের প্রথম কমিটির দপ্তর সম্পাদক হিসেবে সাক্ষী দিচ্ছি জাকির মহানগর যুবলীগের প্রথম কমিটির সদস্য, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, যুবলীগের সম্মেলনে কাউন্সিলার ছিলো, তাঁর ভোটে নির্বাচিত নেতা হয়েছেন আপনারা, তাকে অস্বীকার করতে পারেন না, ৩ মাস মেয়াদের আহ্বায়ক কমিটি ৫ বছর দায়িত্ব পালন করছেন, ৩ বছর মেয়াদের কমিটির ২ বছর হয়ে গেছে পূণাঙ্গ কমিটি করতে পারেন নি। মহানগর যুবলীগে আপনাদের পদ পদবী আছে, আমাদের নেই কেন? গত ৭ বছর ধরে মহানগর যুবলীগের আন্দোলন সংগ্রামে আপনাদের ডানে বামে যারা ছিলো এরা কারা, কি এদের পরিচয় তাহলে। আমাদের ভোটে নির্বাচিত নেতা হয়ে আপনারা পদ পদবী ৭ বছর ধরে ব্যবহার করছেন, অনেকেই আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন, সকল আন্দোলন সংগ্রামে আপনাদের সাথে থাকলেও দুঃসময়ে কাউকে অস্বীকার করতে পারেন না অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ার আগে।’

এদিকে মঙ্গলবার (৪ মে) সিলেট মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি ও সাধারণ সম্পাদক মুশফিক জায়গীদার এক বিবৃতিতে বলেন, সিলেটে নগরীর মালনীছড়া চা বাগান এলাকা থেকে হেরোইন ও একটি বিদেশি রিভলবারসহ গ্রেপ্তার জাকিরুল আলম জাকির (৪১) মহানগর যুবলীগের কোন কর্মী নয় বলে জানান মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি ও সাধারণ সম্পাদক মুশফিক জায়গীদার।

নেতৃবৃন্দরা বিবৃতিতে আরও বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলে র‌্যাবের হাতে আটক হওয়া জাকিরুল আলম জাকিরকে সিলেট মহানগর যুবলীগের কর্মী হিসেবে মনে করছেন এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। মূলত জাকিরুল আলম জাকির সিলেট মহানগর যুবলীগের কেউ নয় এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে বিগত দুই বছর যাবত তাকে সিলেট মহানগর যুবলীগের কোন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। এ ধরনের সংবাদ প্রচারে বিরত থাকার জন্য সাংবাদিকবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।

মোগলাবাজার থানার কুচাই এলাকার সাজ্জাদ আলীর ছেলে জাকিরুল আলম জাকির (৪১) সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সিলেট মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য ছিলেন।

এছাড়া তিনি কুচাই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন। তবে সেই নির্বাচনে তিনি দক্ষিণ সুরমার কুচাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালামের কাছে হেরে যান।

এর আগে ২০১৯ সালের আগস্টে হত্যাচেষ্টা একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন জাকির। এরপর ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সিলেটের রিকাবীবাজারের কাঁচা বাজারে ‘জনজীবনকে বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্রকারীদের মিথ্যাচার অপপ্রচার গুজব বিভ্রান্তি আতংকের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা’ সৃষ্টির লক্ষে সিলেট জেলা ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত জনসভায় সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সহ সভাপতি আসাদ উদ্দিন আহমেদ জাকিরুল আলম জাকিরের মুক্তি দাবি করেছিলেন।

এদিকে জাকিরের ফেসবুক আইডি ঘেঁটে দেখা গেছে তিনি নিজেকে ‘বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সিলেট মহানগর শাখার আহ্বায়ক’ উল্লেখ করেছেন।

প্রসঙ্গত, রোববার (২ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে নগরীর মালনীছড়া চা বাগান এলাকা থেকে হেরোইন ও একটি বিদেশি রিভলভারসহ জাকিরকে আটক করে র‍্যাব-৯। এসময় আটক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ গ্রাম হেরোইন, একটি বিদেশি রিভলভার ও দুইটি গুলি উদ্ধার করা হয়।






Related News

Comments are Closed