Main Menu

সিসিকে হামলাঃ ৩০০ জনকে আসামি করে মামলা

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেট নগরভবনে হামলা চালিয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা শ্রমিকরা। তারা নগর ভবনের চত্বরে থাকা কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুর করে। পরে পুলিশ ও নগর ভবনের কর্মচারীরা ধাওয়া করে শ্রমিকদের তাড়িয়ে দেন। পরে শ্রমিকরা নগরীর বারুতখানা এলাকায় অবরোধের চেষ্টা চালালে পুলিশ তাদের তাড়িয়ে দিয়েছে। গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলাকালে নগরীর কামরান চত্বর, কোর্ট পয়েন্ট, বন্দরবাজার এলাকা পর্যন্ত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে বেড়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দাপট।

এসব রিকশা চলাচলে সিটি করপোরেশনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ কারণে গত কয়েকদিন আগে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে শেখঘাট ও আশপাশ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় কয়েকটি ব্যাটারিচালিত রিকশা আটক করে সিটি করপোরেশনে নিয়ে আসা হয়। এদিকে আটক এসব রিকশা ছাড়িয়ে নিতে রিকশা শ্রমিক ও মালিকরা সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্টদের কাছে ধরনা দেন। কিন্তু সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তাদের এই আহ্বানে সাড়া দেয়া হয়নি। গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে কয়েকশ’ রিকশা শ্রমিক জড়ো হন সিটি করপোরেশনের সামনে কামরান চত্বরে। সেখানে তারা অবস্থান নিয়ে আটক রিকশা ছেড়ে দিতে বিক্ষোভ করেন। কামরান চত্বরে রিকশা চালকদের অবস্থানের কারণে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
এদিকে রিকশা চালকদের বিক্ষোভের সময় নিজ কার্যালয়ে বসা ছিলেন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এ দৃশ্য দেখে তিনি শ্রমিকদের প্রশমিত করতে নগরভবনের নিচতলায় নেমে আসেন। এমন সময় সিটি করপোরেশনের প্রধান ফটক তালা দিলে শ্রমিকরা সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকা থেকে বৃষ্টির মতো সিটি করপোরেশনের ভেতরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরাও পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। রিকশা শ্রমিকদের ছোড়া ইটপাটকেলে সিটি করপোরেশনের ভেতরে থাকা কয়েকটি গাড়ির গ্লাস ভেঙে যায়। কয়েকজন কর্মচারীরাও আহত হন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এদিকে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার খবর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাঠিচার্জ করে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে এসে যোগ দেন সিটি করপোরেশনের কর্মচারীরাও। তাদের ধাওয়ার মুখে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শ্রমিকরা পিছু হটে এবং বন্দরবাজার অভিমুখে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পরপরই নগরীর বারুতখানা এলাকায় অটোরিকশা শ্রমিকরা অবরোধ দেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় তারা বারুতখানা এলাকায় যানবাহন চলাচলে বাধা দেয়। পরে পুলিশ এলে শ্রমিকরা চলে যায়। ঘটনার পর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের নিয়ে জরুরি সভা করেছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এর আগে সাংবাদিকদের মেয়র জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনের ভেতরে হামলা নজিরবিহীন ঘটনা। তারা হঠাৎ করে সিটি করপোরেশনের ভেতরে হামলা চালিয়েছে। তারা কয়েকটি যানবাহনও ভাঙচুর করেছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের হামলার ঘটনায় ৩শত জনকে আসামী করে মামলা করে মামলা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বাদি হয়ে বুধবার (২ জুন) রাতে মামলা দায়ের করেন। এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকে পুলিশের একটি দল এজহার নামীয় আসামিসহ অন্যদেরকে গ্রেফতার করার জন্য অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পুলিশ হামলাকারীদের ছবি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তাদের সনাক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, মামলায় বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) জেলা সদস্য ও শ্রমিক ফ্রন্টের যুগ্ম আহ্বায়ক প্রনব জ্যোতি পাল, বাসদ সিলেট জেলা সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের আহ্বায়ক আবু জাফর ও জুবায়ের আহমদ চৌধুরীকে এজহার নামীয় আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত আরও ২০০-৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আবু ফরহাদ। তিনি জানান, ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা ধরতে বুধবার অভিযান চালায় সিসিক। এসময় বেশ কয়েকটি রিকশা আটক করা হয়। অভিযানে রিকশা আটকের খবর পেয়ে রিকশা চালকরা একত্রিত হয়ে সিসিক কার্যালয়ে হামলা ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করে। এ ঘটনায় সিসিকের লাইসেন্স শাখার কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।






Related News

Comments are Closed