Main Menu

ওসি আব্দুল আহাদের বদলিতে গোয়াইনঘাট বাসির চোখে জল

নিজস্ব প্রতিবেদক :: ২০১৯ সালের ২ আগস্ট গোয়াইনঘাট থানায় যোগদান করেন ওসি আব্দুল আহাদ। অফিসার ইনচার্জ মো:আব্দুল আহাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে বদলি করা হয় গোয়াইনঘাট থেকে। এই ওসির বদলিতে গোয়াইনঘাটবাসীর চোঁখে জল। যোগদানের ৮ দিনের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে গোয়াইনঘাটবাসীকে চমকে দিলেন ওসি আব্দুল আহাদ। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছেন ২৯ জনকে। আর অপরাধীদের মুখে হাসির জোয়ার। কারণ তিনি গোয়াইনঘাটের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যা করছেন ইতিপূর্বে যার এই থানায় ছিলেন তার তিন ভাগের এক ভাগও করতে পারেননি। যার ফলে গোয়াইনঘাটবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন ওসি আব্দুল আহাদ। তিনি যেমনি আপরাধীদের আতঙ্ক ছিলেন ঠিক তেমনি একজন সাদা মনের মানুষ ছিলেন। সকল শ্রেণী পেশার লোকদের এক নজরে আইনি সহায়তা দিয়ে গোয়াইনঘাট থানা একটি নতুন ইতিহাস করে গেছেন। আরও কিছু দিন থাকলে হয়তো তিনি গোয়াইনঘাটকে অপরাধ মূক্ত ঘোষণা দিতে পারতেন বলে ধারণা সচেতন মহলের।

গোয়াইনঘাটের সাংবাদিক মিনহাজ উদ্দিন বলেন, গোয়াইনঘাট থানা সৃষ্টির পর এ যাবতকালে এমন ওসি কজন এসেছেন জানিনা। দোষ,গুনেই মানুষ। গোয়াইনঘাটের বিদায়ী ওসি আব্দুল আহাদ সাহেবকে যেমন দেখেছি,সাংবাদিকতায় ফেলে আসা ২১ বছরে এমনটা কখনোই চোখে পড়েনি। গোয়াইনঘাট থানার এই চেয়ারে ইতিপূর্বে যারা এসেছেন অনেককেই দেখেছি। নাম না বলে নির্ধিদায় বলতে পারবো বেশিরভাগই দেখেছি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চেয়ে কোয়ারী,চোরাচালান, ভারতীয়,গরু,চান্স,পাথর,বালি বানিজ্য,গর্ত বানিজ্যের সাথে তাদের সখ্যতা গড়ে তুলতে। গোয়াইনঘাটে প্রায় ২ বছরের কর্মকানিন সময়ে ওসি আব্দুল আহাদ সাহেবকে কখনো কোন কোয়ারীতে আমি দেখিনি। আগে আইনশৃঙ্খলা,পরে অন্য কিছু এমন চিন্তা চেতনায় চলেছে তার টিম গোয়াইনঘাট থানার কার্যক্রম। তার পথচলায় অগণিত মাদক চোরাচালান,চিহ্নিত দাগি অপরাধীর ঠিকানা হয়েছে সিলেটের বাদাঘাটে সুরমা নদীর তীরে স্থাপিত জেলখানায়। ক্লু লেস খুনের মামলার মোটিভ উদ্ধার,জড়িত খুনিদের গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, সর্বোপুরী সব ধরনের অপরাধ দমনে টিম গোয়াইনঘাট থানার পুলিশ বিভাগকে সক্রিয় রাখতে তাকে বহুদিন সদা ব্যস্ত, বহুরাত নির্ঘুম থাকতে দেখেছি।

ছোটখাটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নিজে গিয়ে আবার কখনো থানায় ডেকে এনে সমাধান করে দিতে দেখেছি। ফসলের মাঠে কৃষকদের উৎসাহিত করতেও দেখেছি।

উৎসাহিত করতে গোয়াইনঘাট উপজেলার শ্রেষ্ট জাড়া লেবু চাষি মোজাহিদের বাগানে যাওয়ার পাশাপাশি তাকে উৎসাহিত করার কথা ছিলো।

করোনাকালে সিলেটে প্রথম সনাক্ত হওয়া করোনার রোগিকে হোম কোয়ারান্টাইন,করোনায় মৃত্যু একাধিক ব্যক্তির গোসল,জানাযা,ফনের ব্যবস্থা করতেও দেখেছি সামনের সারী থেকে নেতৃত্ব দিতে। তার এ পথচলায় সফলতার স্বাক্ষর যেমন বেশি, ঠিক তেমন তাকে নিয়ে পর্দার আড়ালে থেকে কিছু লোকজন মিথ্যাচারে মেতে উঠেছিলো। জনগণের জন্য কাজ করে যাওয়ার কারণে এসব অভিযোগের বেশির ভাগ সমুহ ভূয়া প্রমানিত হয়েছে। ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সিলেটে জেলার শ্রেষ্ট ওসি নির্বাচিত হয়েছেন বারবার।

গোয়াইনঘাটের তরুন,উঠতি সমাজকে ইন্টারনেট ভিত্তিক নানা ধরণের অনলাইন গেম পাবজি, ফ্রি ফায়ারসহ সব কিছু থেকে অবক্ষয় রোধে কাজ করার কথা ছিলো। আকষ্মিক বদলী জনিত কারণে সেই কাজগুলোর পরিসমাপ্তি দেখা হলোনা। তার আগামী পথচলায় সর্বাঙ্গীন সফলতা কামনা করছি। নবাগত অফিসার ইনচার্জের কাছেও বিদায়ী ওসি আব্দুল আহাদ সাহেবের মতো ভালো কাজ আশা করি। তার কাছে সব সময় প্রত্যাশা থাকবে অপরাধমুক্ত গোয়াইনঘাট থানা।






Related News

Comments are Closed