Main Menu

সিটি করপোরেশনের আয়তন বৃদ্ধি পাওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সিলেটবাসীর কৃতজ্ঞতা

ডেইলি বিডি নিউজঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট ১ আসনের সংসদ সদস্য ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সিলেট নিয়ে একটি স্বপ্নপূরণ হলো। সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকা ২৬.৫ বর্গকিলোমিটার থেকে ৬০ বর্গকিলোমিটারে বিস্তৃত হয়েছে।

সোমবার (২৬ জুলাই) প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যদিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন এমপির দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ হলো।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ২০১৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরে আসেন। এর পর থেকে তিনি সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকা ১৮০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি ও প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।

তার মতে সিলেট সিটি কর্পোরেশন বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম সিটি কর্পোরেশন, তাই এর বরাদ্দ সবচেয়ে কম। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের আয়তন ৩০০ বর্গকিলোমিটার যা সিলেটের তুলনায় ১১ গুন বেশি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনার পর অবশেষে অতিরিক্ত ৩৩ বর্গকিলোমিটার বাড়িয়ে প্রায় ৬০ বর্গকিলোমিটারে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছিলো। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটির অনুমোদন দিয়েছেন। সে জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ।

উল্লেখ্য, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের এই সম্প্রসারণটি প্রায় ২০০ বছর পর হলো। ১৮৭৪ সালে সিলেট যখন আসামের অংশ ছিলো তখন সিলেট পৌরসভা ২৬.৫ বর্গকিলোমিটার ছিল।

২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা- সিটি কর্পোরেশনে পরিনত হলেও নগরীর আয়তন আর বাড়েনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন আরো বলেন, চা বাগান এবং জলাশয়, হাওর এবং বিল শহর এলাকার বাইরে রাখতে গিয়ে সিটিকে ৬০ বর্গকিলোমিটারের বেশি করা সম্ভব হয়নি।

১৯৭৮ সালে যখন সিলেট পৌরসভা গঠিত হয় তখনও এর আয়তন ছিল ২৬.৫ বর্গ কিলোমিটার। একই আয়তনে ২০০৬ সালে সেটি রূপ পায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনে।

এতোদিন বাংলাদেশের সবচেয়ে কম আয়তনের সিটি কর্পোরেশন ছিল সিলেট। তবে প্রতিষ্ঠার প্রায় দেড় যুগ পর সেই হিসেব-নিকেশ পাল্টে গেছে। বর্তমান আয়তনের দ্বিগুনের চেয়ে বেশি সীমানা বর্ধিত করার অনুমোদন পেয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন।

গেল বছরের আগস্ট মাসে সিটি কর্পোরেশনের নতুন অন্তর্ভুক্ত এলাকার তালিকা প্রকাশ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসন থেকে জারিকৃত বিজ্ঞপ্তিতে সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত করা হয়েছে সিলেট সদর উপজেলার চারটি ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বেশ কিছু মৌজা। তন্মধ্যে রয়েছে সিলেট সদর উপজেলার টুকের বাজার ইউনিয়নের কুমারগাঁও, মইয়ার চর (দাগ নম্বর ৭৭, ৮২, ৮৩, ৮৯, ৯০, ৯১ ছাড়া), খুরুমখলা শাহপুর, আখালিয়া, খাদিমনগর ইউনিয়নের কুমারগাঁও, খাদিমপাড়া ইউনিয়নের সাদিপুর প্রথম খন্ড, টিলাগড়, দেবপুর, কসবা কুইটুক, সুলতানপুর চক, পেশনেওয়াজ, টুলটিকর ইউনিয়নের সাদিপুর প্রথম খন্ড, টিলাগড় ও দেবপুর। দক্ষিণ সুরমার কুচাই ইউনিয়নের হবিনন্দি, মণিপুর, আলমপুর, গোটাটিকর, বরইকান্দি ইউনিয়নের পিরিজপুর, ধরাধরপুর, বরইকান্দি, গোধরাইল এবং তেতলী ইউনিয়নের ধরাধরপুর, বরইকান্দি (অবশিষ্টাংশ), বলদী (কয়েকটি দাগ) মৌজাগুলো নতুন করে সিলেট সিটির অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয়া হয়। নতুন আওতাভুক্ত অধিকাংশ এলাকা নিয়ে কারও কোনো আপত্তি না থাকায় সিটি এলাকা বর্ধিত করার প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

সিটি করপোরেশনের আয়তন বৃদ্ধি পাওয়ায় সেবার পরিধিও বাড়বে বলে জানা গেছে। এই সেবার আওতায় আসবেন বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুন জনসংখ্যার মানুষ। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সিলেটবাসী।






Related News

Comments are Closed