Main Menu

মৃত্যু যেনো এক ম্যাজিকের নাম

তাসলিমা খানম বীথিঃ দুপুর হতেই হসপিটালে আউটডোর রোগিরা আসতে শুরু করে। দূরদুরান্ত থেকে কখনো সকালেও চলে আসেন। বিশেষজ্ঝ চিকিৎসকরা একে একে রোগি দেখেন আর আমাদের ব্যস্ততা বাড়তেই থাকে। আমি সবেমাত্র ইভিনিং ডিউটিতে গিয়েছি। কাজ নিয়ে কলিগের সাথে কথা বলছিলাম। তখন রিসিপশনে বসা একজন রোগি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। লোকটি পানি পানি করছিলো। আমি পানি এগিয়ে দেই। স্টাফরা ইমার্জেন্সি রুমে নিয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার দ্রুত ট্রিটমেন্ট শুরু করেন। রোগির স্ত্রী চোখে পানি। আমরা সবাই টেনশন অপেক্ষায়। লোকটি কি মরতে মরতে জীবিত হয়ে যাবে? নাকি জীবিত থেকেই মরতে মরতে চলে যাবে। এক অদ্ভুদ মুহুর্ত। এভাবেই হয়তো তরতাজা মানুষ থেকে লাশ নামে পরিণত হয়। নিজের অজান্তে হাত পা হিম হয়ে আসছে অনুভব করি।

২. হসপিটালে কাজ করতে গিয়ে মানুষের জীবনের ঘটে যাওয়া আনন্দ-বেদনা দৃশ্যমান কাউকে না ভাবালেও আমাকে নাড়া দিয়ে যায়। কিছুক্ষন পর লোকটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে পেয়ে মুহুর্ত মধ্যে হাসিমাখা মুখ দেখে ভাবি। আহা! একি বলে জীবন! তিনি হাটছে বসছে কথা বলছে। আমি অবাক হয়ে দেখি। লোকটি নিজে গিয়ে পানি কিনে এনে তুলে দিয়ে বলল-আপা পানি নেন। পানি কেন?-তিনি যখন পানির জন্য গলাটা শুকিয়ে যাচ্ছে আমি এগিয়ে দিয়েছিলাম একবোতল পানি। তাকে বলি না ভাই। পানি লাগবে না আপনাকে সুস্থভাবে দেখতে পেয়ে ভালো লাগছে।

৩. মৃত্যু শব্দটি আমাদের সবচে কাছের প্রিয় মানুষটির মত। হারিয়ে গেলে মনে হয় কতটা কাছের থেকে,কতটা দূরের হয়ে যায়। খুব কাছ থেকে চোখের পলকে মানুষের চলে যাবার দৃশ্য কঠিন আর করুন ভাবাই যায় না। ম্যাজিকম্যান যেমন দৃশ্যমান বস্তুকে অদৃশ্য করে দেয় ঠিক এরকমই মন হলো মৃত্যু নয়,যেনো কেউ একজন ম্যাজিক দেখাচ্ছিল জীবিতকে কিভাবে মৃত করা যায়। সুস্থ শরীর নিয়ে লোকটি বাড়ি ফিরছে ভাবতেই ভালো লাগছে। চলে যাবার সময় হসপিটালে চিকিসকসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানান রোগি পরিবার। জীবন অনেক ছোট,অনেক সুন্দর।

তাসলিমা খানম বীথিঃ
ফ্রিডম জেনারেল হাসপাতাল
এয়ারর্পোট রোড আম্বরখানা সিলেট






Related News

Comments are Closed