Main Menu

গোয়াইনঘাট সমাজসেবা অফিস ঃ কাজের পরিধি বাড়লেও বাড়েনি জনবল

হায়দার চৌধুরী,গোয়াইনঘাটঃ তিন যুগের পুরানো জনবল কাঠামো দিয়ে চলছে গোয়াইনঘাট সমাজসেবা অফিস। জনবল সংকটেও পিছিয়ে নেই সেবার মান। মানুষের কাঙ্খিত বিকাশমান সামাজিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে জনগণের জীবনমানের সমন্বিত উন্নয়ন সাধনের লক্ষে কাজ করছে সমাসেবা অফিস গোয়াইনঘাট।

কালের বিবর্তনে সময়ের পরিক্রমায় কাজের পরিধি বাড়লেও বাড়েনি লোকবল। সমাজসেবা অফিসের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সমাজসেবা অফিসার আবু কাওসার।

সমাজসেবা অধিদফতর সরকারের অন্যান্য জাতিগঠনমূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৯৫৫ সালে দেশে সমাজকল্যাণ কার্যক্রম শুরু হলেও ১৯৬১ সালে সমাজসেবা পরিদফতরের সৃষ্টি হয়। ষাটের দশকের সৃষ্টিকৃত পরিদফতরটিই আজ সমাজসেবা অধিদফতরে উন্নীত হয়েছে।

এ অধিদফতরের কার্যক্রম প্রথম দিকে ছিল শহরভিত্তিক এবং সেবামূলক। সময়ের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সদিচ্ছায় এ অধিদফতরের কার্যক্রম দেশব্যাপী তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃতি লাভ করেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতেই ১৯৭৪ সালে প্রবর্তিত পল্লী সমাজসেবা কার্যক্রমের (আরএসএস) মাধ্যমে সমাজসেবা অধিদপ্তরের জাতি গঠনমূলক কর্মসূচির বীজ বপন হয়। এ অধিদপ্তরের মাধ্যমে কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণের এক অনন্য ভিত্তি স্থাপিত হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ১৯৯৭-৯৮ সালে বয়স্ক ভাতা প্রবর্তনের মাধ্যমে। পরের অর্থবছরই বিধবা ও স্বামী নিগৃহিতা মহিলা ভাতা প্রবর্তন করেন তিনি। কালের পরিক্রমায় সমাসেবা অধিদপ্তর আজ অর্ধশতাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। যেখানে ১৯৮৪ সালেও এ অধিদপ্তর হাতেগোনা দু-তিনটি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করত। ১৯৮৪ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সবশেষ জনবল কাঠামো পুনর্বিন্যাস করা হয়।

সূত্র জানায়,২০১৪ সালের ২ নভেম্বর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজসেবা ক্যাডার পদ সৃজনের অনুশাসন বা নির্দেশনা দেন। সেই নির্দেশনার সাত বছরেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে কাজের পরিধি সম্পর্কে জানা যায়,উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে বয়স্ক,বিধবা,অসচ্ছল প্রতিবন্ধী,দলিত হরিজন,অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ভাতা ও অসচ্ছল প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তিসহ মোট ২৫৫০৩ জন নিয়মিত ভাতাভোগীর সাথে জাতীয় সমাজকল্যাণ কমিটির আওতায় বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন চা-শ্রমিকদের এককালীন অনুদান,ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি,ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী উপবৃত্তি, উপজেলা রোগীকল্যাণ সমিতির মাধ্যমে দরিদ্র ও দুস্থ রোগীদের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তা প্রদান ছাড়াও আরএসএস ও সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ,মাতৃকেন্দ্র,দগ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও ঋণ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন অনিয়মিত ও বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় সরাসরি প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক সেবাগ্রহীতা সরাসরি সেবা গ্রহন করে যাচ্ছেন। স্বল্প জনবল নিয়েও নিরলসভাবে সকল সেবাগ্রহীতার কাছে সর্বোত্তম সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর গোয়াইনঘাট উপজেলা সমাজসেবা অফিস।

প্রধানমন্ত্রী শেখ শেখ হাসিনা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বয়স্কভাতা এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহিতা মহিলাদের জন্য ভাতা কর্মসূচির আওতায় দারিদ্র্যপ্রবণ ১৫০ টি উপজেলায় শতভাগে উন্নীত করে সরকার। যার নির্দশন স্বরুপ দেশের দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগণ,দিনমজুর এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত জনসাধারণে মৌলিক চাহিদা পূরণে বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের আওতা বৃদ্ধি করে উপজেলায় চালু হয়েছে শত ভাগ বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপির একান্ত প্রচেষ্টায় গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রান্তিক মানুষ গুলোও এই সুবিধার আওতাভুক্ত হয়ে এর সুবিধা ভোগ করছে।

বর্তমান সরকারের উল্লেখিত এ কার্যক্রম গুলোকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সততা ও নিষ্ঠার সাথে কঠোর পরিশ্রম করে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করছেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আবু কাওসার,হয়েছেন প্রশংসিত। উনার এই নিরবচ্ছিন্ন কাজে উপজেলার মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকেও অনেকে প্রশংসামূলক পোস্ট করেছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আবু কাওসার আলাপকালে জানান,সুষ্ঠুসেবা দেয়ার প্রথম শর্তই হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দক্ষ ও যৌক্তিক সংখ্যক জনবল। কিন্তু সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিদ্যমান জনবল কাঠামো দিয়ে সরকারের এতগুলো কর্মসূচি বাস্তবায়ন দিন দিন দুরূহ হয়ে পড়ছে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়ে রয়েছে জনবল সংকট। গোয়াইনঘাট উপজেলায় ফিল্ড সুপারভাইজার ও অফিস সহকারী পদ ২টি শূন্য।ইউনিয়ন সমাজকর্মী থাকার কথা ৪ জন। আছেন ১ জন। তিনি বলেন,বর্তমান সরকারের সকল অর্জনকে আমি ম্লান হতে দেয় নাই,সর্বাত্মক প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করছি ভবিষ্যতেও করব ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরো জানান,সুসংহত ও বিকাশমান সামাজিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে জনগণের জীবনমানের সমন্বিত উন্নয়ন সাধনের লক্ষে উপকারভোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে আগামী সাপ্তাহ উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠকে বসবো। যাতে করে কোনো উপকারভোগী প্রতারণা বা প্রবঞ্চনার শিকার না হয়। তার নায্য সুবিধা ভোগ করতে পারে।






Related News

Comments are Closed