Main Menu

রায়হান হত্যাঃবন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সিসিটিভি’র হার্ডডিস্ক পরিবর্তনকারী নোমান আজও অধরা

ডেইলি বিডি নিউজঃ সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্মম নির্যাতনে রায়হান আহমদ (৩৪) নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত (বরখাস্তকৃত) এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে পালাতে সহায়তাকারী এবং বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সিসিটিভি’র হার্ডডিস্ক পরিবর্তন করার অপরাধে এখনও অধরাই রয়ে গেল নোমান। বছর ঘুরতে চলেছে তাও পুলিশ আজও নোমানকে খুঁজে গ্রেফতার করতে পারেনি। আকবরকে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে পালিয়ে যেথে সহায়তাকারী স্থানীয় অনলাইন সাংবাদকর্মী আব্দুল্লাহ আল নোমান এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরেই রয়েছে। তবে কি নোমান কে খুঁজে পাওয়া যাবে না অনেকেরেইব মনে এমন প্রশ্ন। বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত রায়হান হত্যা কান্ডের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ গায়েব করেন আব্দুল্লাহ আল নোমান। বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির টু-আইসি’এএসআই হাসান উদ্দিন ও স্থানীয় সাংবাদকর্মী নোমান মিলে ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার ফাঁড়ির সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক পরিবর্তন করে নতুন হার্ডডিস্ক সংযোজন করে।

তদন্ত কমিটির তথ্যমতে,এসআই আকবর ও বরখাস্ত এসআই হাসান ও সাংবাদকর্মী নোমান মিলে গায়েব করেন হার্ডডিস্কটি। পাশাপাশি ঘটনার দিন হাসানের সাথে নোমানের ৪০ বার কথা বলেছেন। এর আগের দিন নোমানের সঙ্গে ফাঁড়ির টু আইসি এসআই হাসানের কথা হয়েছিল ১৯ বার। এছাড়াও হাসান উদ্দিনের বিরুদ্ধে এসআই আকবরকে পালানোর সহায়তার অভিযোগও পেয়েছে তদন্ত কমিটি।

জানা যায়,নগরের জিন্দাবাজারস্থ গ্যালারিয়া শপিং সিটির ফ্রেন্ডস কম্পিউটার নামের একটি দোকান থেকে নতুন হার্ডডিস্ক কিনে সংযোজন করে পুরনো হার্ডডিস্ক সরিয়ে নেন এসআই আকবর,হাসান ও নোমান। তারপর থেকেই গায়েব হয়ে যায় ফাঁড়ির ভিতরে নির্যাতনের প্রমাণ ধারণ করা মূল হার্ডডিস্ক। গ্যালারিয়া মার্কেটের ওই কম্পিউটার দোকান থেকে ১২০০ টাকায় ৫০০ গিগাবাইটের হার্ডডিস্কটি কেনা হয়। যার ইনভয়েস নম্বর ২৪৬০২। এরপর কম্পিউটারের দোকানের এক কর্মচারীকে নিয়ে সেই হার্ডডিস্কটি বদলে দেন নোমান। ফাঁড়িতে দায়িত্বরত অনেকে এ বিষয়টি দেখতে পেয়েছিলেন। আর সেই মার্কেটের সিসিটিভির ফুটেজও সংগ্রহ করে তদন্ত কমিটি। আর নোমানের সঙ্গে এসআই আকবরের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। আকবরকে খালাতো ভাই পরিচয় দিতেন নোমান। নগরের বিভিন্ন হোটেল,হকার,যানবাহন,নিষিদ্ধ ব্যবসা থেকে এসআই আকবরের কালেকশন ম্যান ও সোর্স ছিলেন নোমান। তার ইশারাতেই এসআই আকবর বিভিন্ন লোকজনকে ধরে এনে ফাঁড়িতে নির্যাতন করে টাকা আদায় করতেন। এসআই আকবর ও এসআই হাসানের সঙ্গে নোমানের প্রায়ই আড্ডা হতো।

অনেকের মনেই প্রশ্ন,রায়হান হত্যার এক বছর হতে চললো তাও আজও পুলিশ আব্দুল্লাহ আল নোমানকে খুঁজে পায়নি নাকি ইচ্ছে করেই নোমান কে গ্রেফতার করা হচ্ছে না,নাকি তাকে খুঁজেই পাওয়া যাবে না এমন প্রশ্ন অনেকেরই মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে কি নোমান অধরাই রয়ে যাবে। বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্মম নির্যাতনে রায়হান আহমদ (৩৪) হত্যা ঘটনার প্রমাণ নষ্ট ও ধামাচাপা দিতেই সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক পরিবর্তন করে নোমান।

প্রসঙ্গত,গত বছরের ১১ অক্টোবর ভোরে নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনের শিকার হন রায়হান আহমদ (৩৪)। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে তিনি মারা যান। রায়হান সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।তিনি নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে কাজ করতেন। এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু আইনে সিলেট নগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী।






Related News

Comments are Closed