Main Menu

সংকটে ট্যুরিস্ট পুলিশের জাফলং সাবজোন

এনামুল কবীরঃ সংকটে ট্যুরিস্ট পুলিশের জাফলং সাবজোন শুধু সিলেটই নয়,সারাদেশে প্রকৃতিকন্যা হিসাবে বিখ্যাত সিলেটের জাফলং। গোয়াইনঘাট উপজেলায় অবস্থিত এই পর্যটনকেন্দ্র ছাড়াও আছে আরও অনেক পর্যটনকেন্দ্র। মহামারী করোনার আগে প্রায় সারা বছর এই পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকত। লেগে আছে এখনো। আর এই পর্যটকদের জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টি যারা দেখেন, সেই ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালনে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন সুযোগ সুবিধার অভাবে।

জানা গেছে,সিলেট জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশের জাফলং সাবজোনের অন্তর্গত পর্যটন কেন্দ্রগুলো হচ্ছে জৈন্তাপুরের লালাখাল,শাপলাবিল,নলজুরি চা বাগান,গোয়াইনঘাটের জিরোপয়েন্ট,বল্লাঘাট,মায়াবী ঝর্ণা ইত্যাদিসহ আরও কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্র।

এসব কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের জন্য জাফলং সাবজোনে কাজ করছেন মোট ১৭ জন পুলিশ সদস্য। জনবল সংকট যেমন প্রবল তেমনি অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও তাদের নেই বললেই চলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,জাফলং জোনের প্রায় পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের জন্য যেমন নির্মল আনন্দ আর অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ রয়েছে,তেমনি জীবনের ঝুঁকিও রয়েছে। সীমান্ত এলাকা হওয়ায় প্রায়ই অসচেতনভাবে দেশ পেরিয়ে পরদেশে চলে যাওয়া থেকে পর্যটকদের বিরত রাখতে যেমন প্রচার চালাতে হয় ট্যুরিস্ট পুলিশকে,তেমনি জাফলংয়ের নদী বা খালের পানিতে ডোবে প্রাণহানীর হাত থেকে বাঁচাতেও চালাতে হয় ব্যাপক প্রচারণা। তাছাড়া তারা লাশ উদ্ধার,হারিয়ে যাওয়া শিশু বা কিশোর কিশোরীকে উদ্ধার,প্রতারক বা ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ,ছিনতাই হওয়া মোবাইল টাকা উদ্ধারসহ আরও নানা কাজ করতে হয় তাদের।

এসব কাজ করতে গিয়ে তাদের প্রতিনিয়ত প্রতিকুল পরিস্থিতির সাথে লড়াই করতে হচ্ছে। জনবল সংকটের বিষয়টিতো আছেই,সেই সাথে আছে অন্যান্য সমস্যাও। যেমন,পর্যাপ্ত পুলিশ বক্স বা বিশ্রামাগার নেই,নেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা,নদী পারাপারের জন্য নৌযানও নেই। এতে অসুস্থ হয়ে পড়া পর্যটকদের যেমন ডাক্তারের কাছে নিতে প্রচুর সময় লাগে,তেমনি সময় লাগছে পুলিশের ক্ষেত্রেও।

শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে জাফলং জিরো পয়েন্টে হঠাৎ রোদ আর প্রচ-গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন জাফলং সাবজোনের এএসআই নজরুল ইসলাম হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে ওসি রতন শেখ ও উদ্ধার করে এক ঘন্টার চেষ্টায় সেবা দিয়ে তাকে ৩ কিলোমিটার দূরের জাফলং মামার দোকানে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।

বিষয়টার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশ জাফলং জোনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ। তাদের সমস্যাগুলো বলতে গিয়ে তিনি বলেন,আমাদের জন্য নির্ধারিত কোন কোন অফিস বা বসার ব্যবস্থা নেই। রোধ বৃষ্টিতে কাজ করতে গিয়ে আমরা অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ি। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ছুটতে হয় ৩ কিলোমিটার দূরে। আমাদের নিজস্ব কোন নৌকাও নেই। অত্যন্ত দুঃখ কস্ট আর ঝুঁকি নিয়েই আমাদের কাজ করতে হয়।

বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ট্যুরিস্ট পুলিশ সিলেটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) মো.আলতাফ হোসেন বলেন,সীমান্ত এলাকায় স্থাপনা নির্মাণ অনেক জটিল। কিন্তু তবু তা খুব প্রয়োজন। আমরা বিজিবিসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করছি। আলাপ হচ্ছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথেও। দ্রুত এই সমস্যা সমাধান হবে ইনশাল্লাহ।

জনবল সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন,এ বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে। জাফলং সাবজোনে আরও পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেয়া হবে।






Related News

Comments are Closed