Main Menu

আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি হ্রাস করা হবেঃ পরিকল্পনামন্ত্রী

ডেইলি বিডি নিউজঃ বড় বড় প্রকল্পগুলো দুর্নীতি, লুটপাট ও অপচয়ের সুযোগ করে দিচ্ছে। এখন বড় বড় বাজেট হচ্ছে,প্রকল্প হচ্ছে,সেখানে লুটপাট হচ্ছে এখানে ওখানে। যেখানে বেশি কেনাকাটা হবে,সেখানে বেশি দুর্নীতি। এটি এখন একটি ব্যাধি। সমাজে দুর্নীতি আছে এবং আমরা এটি নিয়ে চিন্তিত। তবে অসহিষ্ণুতা নয়, বরং আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্নীতি হ্রাস করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন,দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকসহ অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। হাইটেক পার্কে যেসব ব্যত্যয় ঘটেছে তা দূরীকরণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উচ্চ শিক্ষার প্রসারে সরকার আন্তরিক এবং সেজন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, যেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন,অটোমেশন বা যান্ত্রিকীকরণ প্রক্রিয়ায় পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তবে এটি সত্য যে মেশিনের পেছনে যে মানুষ সেখানে আমাদের ঘাটতি আছে। সেখানেও কাজ করতে হবে। শিক্ষা ও প্রযুক্তির প্রসার ঘটিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বস্তরের দুর্নীতিকে প্রতিকার করা জরুরি।

শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসিতে) অনুষ্ঠিত ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি’ নিয়ে ছায়া সংসদে এম এ মান্নান প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন,বাংলাদেশও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে পথ চলা শুরু করেছে। কিন্তু দ্রুত গতির চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে বাংলাদেশ কতখানি যুক্ত হতে পারছে সেটি হচ্ছে আলোচনার বিষয়। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে দ্রুতগতির ইন্টারনেট,মেশিন টু মেশিন যোগাযোগ, বিগ ডাটা,রিয়েল টাইম ডাটা,কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা,আধুনিক রোবটিক্স,ন্যানো টেকনোলজি,আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, থ্রিডি প্রিন্টিং,স্বয়ংক্রীয় গাড়ি ইত্যাদি বিষয় চলে আসে। কিন্তু এগুলোর কোনোটিতেই এখনো আমরা আশানুরূপ অবস্থান তৈরি করতে পারিনি।

তিনি বলেন,চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে যুক্ত হওয়ার জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ইন্টারনেট সুবিধা। অথচ ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশ সুদান,লিবিয়া,সিরিয়া, সোমালিয়া,ইথিওপিয়া,উগান্ডার মতো দেশের চেয়েও পিছিয়ে আছে। মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৭টি দেশের মধ্যে ১৩৫তম। ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশের পেছনে রয়েছে আফগানিস্তান ও ভেনেজুয়েলা। তবে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানে অনলাইন সেবা চালু হয়েছে। চালু হয়েছে ৯৯৯ ও ৩৩৩ এর মতো জরুরিসেবা কার্যক্রম,মোবাইল ব্যাংকিং,ই-কমার্স, অনলাইন মার্কেটিং ইত্যাদি কার্যক্রম।

এ সময় তিনি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ১০টি সুপারিশও তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে সারাদেশে সাশ্রয়ী মূল্যে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবস্থা করা, প্রথাগত শিক্ষার বাইরে বৃত্তিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়া,শুধুমাত্র পোশাক খাতের ওপর নির্ভর না করে রপ্তানিমুখী শিল্পসহ অন্যান্য সেক্টরে উৎপাদন বৈচিত্রতা নিশ্চিত করা,সৃজনশীল ও বুদ্ধিভিত্তিক চর্চার সুযোগ বাড়িয়ে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অধিক হারে গবেষণার সুযোগ দেওয়া,শিক্ষা,স্বাস্থ্য,স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন সমস্যাকে প্রযুক্তি ও বুদ্ধিভিত্তিক উপায়ে সমাধানের গুরুত্ব দেওয়া,প্রযুক্তিকে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, হাইটেক পার্কসমূহে যুবক ও যুব মহিলাদের কর্মসংস্থানের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা ইত্যাদি উল্রেখযোগ্য।

প্রতিযোগিতায় নর্দান ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশকে পরাজিত করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির বিতার্কিকরা চ্যাম্পিয়ন হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে ট্রফি ও সনদপত্র দেওয়া হয়। এ সময় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়নকর্মী ড. এস এম মোর্শেদ,সাংবাদিক রুহুল আমিন,রিয়াদ হোসাইন,দৌলত আক্তার মালা ও আরিফুর রহমান।






Related News

Comments are Closed